গত দুই দিন ধরে মেঘনা নদীতে অস্বাভাবিক জোয়ারে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চরাঞ্চাল ও নিম্নাঞ্চলসহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ, অমাবস্যা এবং ঝোড়ো হাওয়ার প্রভাবে বুধবার বিকাল থেকে মেঘনা নদীর জোয়ারে পানি স্বাভাবিকের চেয়ে পাঁচ-ছয় ফুট বেড়ে জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়েছে। এতে উপজেলার মেঘনা নদী তীরবর্তী এলাকা এবং চরাঞ্চলের এলাকার প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। জোয়ারের পানির স্রোতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বসতঘর বিধ্বস্ত হওয়াসহ কয়েক হাজার একর রোপা আমন ধানের জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয়রা জানান, বেড়িবাঁধ না থাকায় মেঘনা নদীর তীরবর্তী বালুরচর, সুজনগ্রাম, জনতা বাজার, মুন্সীরহাট, বাংলাবাজার, আসলপাড়া, আলেকজান্ডার, সেবাগ্রাম, গাবতলী, চরআলগী, বড়খেরী, চরগাজী, চরগজারিয়া, চর মুজাম্মেল ও তেলিরচরসহ নিম্নাঞ্চল এলাকাগুলো পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে এসব এলাকার ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
উপজেলার দুর্গম চর আব্দুল্যাহ ইউনিয়নের চরগজারিয়ার চেয়ারম্যান বাজারের ব্যবসায়ী তছলীম উদ্দিন জানান, জোয়ারের পানিতে এই চর এলাকার চেয়ারম্যান বাজার ও জনতা বাজার তিন থেকে চার ফুট পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে বাজারের ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। এছাড়া পানির তোড়ে বাজারের দোকানঘর ও মালামালের ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি জানান।
চরআলগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন লিটন চৌধুরী জানান, তার ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী এলাকাগুলো জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এতে এলাকার কয়েক শ একর সদ্য রোপা আমন ধানের জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া পানি বসতঘরে ঢুকে যাওয়ায় মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। চর আব্দুল্যাহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কামাল উদ্দিন জানান, তার ইউনিয়নটি চারদিকে মেঘনা নদীবেষ্টিত হওয়ায় অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়েছে। এতে চেয়ারম্যান বাজার ও জনতা বাজার এখনো তিন ফুট পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। জোয়ারের স্রোতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মালামালসহ দোকানঘর ও বসতঘর।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল মোমিন বলেন, অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে চরাঞ্চলসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার খবর পেয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের এলাকাবাসীর পাশে থাকার জন্য বলা হয়েছে। তাদের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
