বাঘ আতঙ্কে পঞ্চগড়ের কয়েক হাজার গ্রামবাসী

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২০, ২২:২৩

পঞ্চগড়ে ভারতীয় বাঘের আতঙ্কে দিন কাটছে কয়েক গ্রামের হাজার হাজার গ্রামবাসীর। গত এক মাস ধরে আনাগোনা এবং ছাগল, গরু ও কুকুর খেয়ে ফেলার ঘটনায় আতঙ্ক আর ভয়ে দিন কাটছে তাদের। বাঘের আক্রমণ থেকে বাঁচতে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে গ্রামের মানুষ। আতঙ্কিত গ্রামবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে ঐ এলাকায় চলছে প্রশিক্ষিত বনকর্মীদের অভিযান। তবে বাঘের পায়ের ছাপ দেখতে পেলেও এখন পর্যন্ত তারা বাঘ দেখতে পাননি। জেলা প্রশাসন ও সামাজিক বন বিভাগ অথবা সরকারের অন্য কোনো সংস্থা যদি বাঘ উদ্ধারে তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে সড়ক অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে গ্রামবাসী। গতকাল বৃহস্পতিবার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ হোসেন, সদর থানার পুলিশের উপপরিদর্শক শাহীনুজ্জামান, সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আব্দুর রহমান, পঞ্চগড়ের ফরেস্ট রেঞ্জার আব্দুল হাইসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং এলাকাবাসীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ভারতীয় একটি চিতাবাঘ তার দুটি বাচ্চাসহ সীমান্তের একটি ব্রিজের নিচ দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে বলে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সীমান্তবর্তী এলাকার লোকজনকে অবহিত করে। তারপর ঐ এলাকার        লোকজনও আকারে লম্বা ও গায়ে কালো গোল ছাপ দেখে বাঘগুলো চিতাবাঘ বলে ধারণা করছে। দুটি বড় ও তিনটি বাচ্চা বাঘ রাত হলেই বের হয়ে গ্রামের দিকে চলে আসে। গত এক সপ্তাহ ধরে বাঘের আনাগোনা আরো বেড়ে গেছে। ফলে প্রয়োজন ছাড়া কেউ হাটবাজারে যাচ্ছে না। গেলেও দল বেঁধে যাচ্ছে। এখন রাতে শান্তিতে ঘুমাতেও পারছে না তারা। রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে গ্রামের মানুষ। ঐ এলাকার চার একর জমির পুরোনো চা-বাগানের ঝোপঝাড়ে বাঘ লুকিয়ে রয়েছে বলে মনে করছে স্থানীয়রা। চা-বাগান এলাকায় শত শত উত্সুক মানুষের ভিড় বেড়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে তারা বাঘ দেখতে আসছে।  বিভিন্ন স্থানে পেতে রাখা হয়েছে বাঘ ধরার ফাঁদ।

দেবনগড় ইউনিয়নের ঊষাপাড়া গ্রামের আবুল কালাম জানান, ‘বুধবার বিকেলে আমার একটি গরুকে বাঘ গলায় কামড়ে ধরে হত্যা করে। আমি নিজেই চা-বাগানে চিতাবাঘ দেখেছি এবং সে সময় আমার চিত্কারে লোকজন ছুটে আসে। অন্যরাও বাঘ দেখেছে।’ সাহেবীজোত গ্রামের হাজিবউদ্দিন নামের একজন বলেন, ‘আমরা কয়েকটি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ বাঘের আতঙ্কে ভয়ে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছি।’

পঞ্চগড় ফরেস্ট রেঞ্জার আব্দুল হাই বলেন, ‘প্রধান বন সংরক্ষকের নির্দেশে ঢাকা থেকে আসা ভেটেরিনারি সার্জনসহ চার সদস্যের একটি দল ও আমাদের স্থানীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বয়ে বাঘ ধরার কাজ শুরু হয়েছে।’ 

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফ হোসেন জানান, কিছু প্রত্যক্ষদর্শী এবং গরু হত্যা করার মালিক ও বাঘের পায়ের ছাপ থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে এ এলাকায় বাঘের অস্তিত্ব রয়েছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক বিষয়টি সার্বক্ষণিক তদারক করছে। এছাড়া বাঘের আক্রমণে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের সহযোগিতা করার কথাও বলেছেন তিনি।