করোনার প্রভাবে দ্বিগুণ হতে পারে যুব বেকারত্বের হার :আইএলও

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২০, ০০:৪৯

করোনার প্রভাবে বাংলাদেশে যুব বেকারত্বের হার বেড়ে দ্বিগুণের বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)। ২০১৯ সালের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী দেশের ১১ দশমিক ৯ শতাংশ তরুণ বেকার। করোনা প্রভাবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তিন মাস বাধাগ্রস্ত হলে এই বেকারত্বের হার ২০ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছে যেতে পারে। আর যদি প্রভাব ছয় মাস পর্যন্ত টিকে থাকে সেক্ষেত্রে যুব বেকারত্বের হার হতে পারে ২৪ দশমিক ৮ শতাংশ পর্যন্ত। অর্থাত্ কর্মক্ষম এক-চতুর্থাংশ তরুণ জনগোষ্ঠী বেকার হতে পারেন।

সম্প্রতি প্রকাশিত ‘ট্যাকলিং দ্যা কোভিড-১৯ ইয়ুথ এমপ্লয়মেন্ট ক্রাইসিস ইন এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক’ শিরোনামে প্রতিবেদনে এমন পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তায় এ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে আইএলও। এতে বলা হয়েছে, এশিয়া অঞ্চলে তরুণরা এমনিতেই শ্রমবাজারে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি ছিল। করোনার কারণে ‘লকডাউন প্রজন্ম’ তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব দীর্ঘদিন থাকবে। করোনার তাত্ক্ষণিক প্রভাবে লকডাউন এবং সরবরাহ ব্যবস্থা ক্ষতি হওয়ায় কাজ হারিয়েছে বহু তরুণ। সমাজে এর প্রভাব দীর্ঘ মেয়াদে থাকবে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনার স্বল্পমেয়াদি প্রভাবে বাংলাদেশে কর্মসংস্থান হারাতে পারে ১১ লাখ ১৭ হাজার যুব শ্রমশক্তি। যদি ছয় মাসের প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া হয় সেক্ষেত্রে বেকার হতে পারেন ১৬ লাখ ৭৫ হাজার যুব শ্রমশক্তি। বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১০ শতাংশের মতো ক্ষতিগ্রস্ত হবে শুধু তৈরি পোশাকশিল্পে। এছাড়া কৃষি খাত, খুচরা বিক্রেতা, হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহনসহ সেবা খাতে নিয়োজিত তরুণরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মোট বেকারদের প্রায় ৭৬ শতাংশ হতে পারে এসব খাতে। শুধু বাংলাদেশই নয়, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে নেপাল, পাকিস্তানেও বেকার দ্বিগুণ হবার আশঙ্কা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ভারতের তরুণ বেকারত্বের হার ২৩ দশমিক ৩ শতাংশ এবং শ্রীলঙ্কার বেকারত্বের হার ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলে যুব বেকারত্বের হার দ্রুত বাড়ছে। ১৩টি দেশে ২০২০ সালের শেষের দিকে বেকারত্বের হার অনেক বেড়ে যাবে। কিছু ক্ষেত্রে যুব বেকারত্বের হার ২০১৯-এর চেয়ে দ্বিগুণ হবে। যুব কর্মসংস্থান সংকট নিরসনে এ অঞ্চলের সরকারগুলোর প্রতি জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে মজুরিতে ভর্তুকি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে ব্যাপক কর্মসংস্থান তৈরিতে নীতিনির্ধারক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। তরুণ শিক্ষার্থীদের ওপর করোনার প্রভাব হ্রাস করতে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম যাতে বাধাগ্রস্ত না হয় সেই পদক্ষেপ নিতে হবে। সমাজে দরিদ্র্য ও আয়ের ঝুঁকিপূর্ণ তরুণদের নিয়ে সহায়তা করতে আহ্বান জানিয়েছে আইএলও।