গঙ্গাচড়ায় সেতু এলাকায় কমে যাচ্ছে পানিপ্রবাহ

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২০, ২১:১৯

তিস্তার ভাঙন

কমল কান্ত রায়, গঙ্গাচড়া (রংপুর) সংবাদদাতা

বিভিন্ন স্থানে তিস্তার সাম্প্রতিক ভাঙনে বদলে যাচ্ছে নদীর পানিপ্রবাহের গতিপথ। এতে একদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা যেমন ব্যাপক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন তেমনি গঙ্গাচড়ায় শেখ হাসিনা তিস্তা সেতুর নিচে কমছে পানির প্রবাহ। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শেখ হাসিনা তিস্তা সেতুর নিচ দিয়ে পানি ক্ষীণধারায় প্রবাহিত হচ্ছে। সেতুর ১০টি পিলারের মধ্যে দুটি দিয়ে পানি প্রবাহ আছে। বাকি পিলারগুলোয় নিচে পানি প্রবাহ কম। অন্যদিকে, শংকরদহ এলাকায় বাঁধ ভেঙে যাওয়ার কারণে তিস্তার আরো দুটি চ্যানেল বের হয়েছে। এর একটি চ্যানেলে তিস্তার পানি তীব্র বেগে এসে শেখ হাসিনা তিস্তা সড়ক সেতুতে আঘাত করে। এতে কিছু অংশ ধসে তিস্তার বেশির ভাগ পানি বর্তমানে সেই দিক দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর পানি প্রবাহ বেশি হওয়ার কারণে ভাঙনে লন্ডভন্ড হয়ে যাচ্ছে কয়েকটি গ্রাম।

লক্ষ্মীটারী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, তিস্তার উজানে সাত কিলোমিটার একটি বেড়িবাঁধ না দেওয়ায় হাজার হাজার পরিবার নদীভাঙনের শিকার হয়েছে। সেই সঙ্গে তিস্তার গতিপথ পরিবর্তন হওয়ার কারণে গুচ্ছ গ্রামসহ বাঁধ, মসজিদ-মাদ্রাসা বিলীন হয়েছে তিস্তায়। তিস্তার পানিপ্রবাহ এখন মূল তিস্তায় না গিয়ে উত্তর দিক দিয়ে চলছে। এবারে চরইচলি মৌজায় প্রায় ১ হাজার পরিবারের বাড়িঘর তিস্তায় বিলীন হয়েছে। শেখ হাসিনা তিস্তা সেতুতে পানিপ্রবাহ অনেক কম। রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান ইত্তেফাককে বলেন, শেখ হাসিনা তিস্তা সেতু অকার্যকর হতে দেওয়া যাবে না। তিস্তার যে পথ দিয়ে নতুন করে চ্যানেল বের হয়েছে সেখানে শুকনো মৌসুম এলে কাজ করা হবে। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। উচ্চ পর্যায়ের একটি টিম এসে পরিদর্শন করে কাজ করবে।