কুমিল্লা-নোয়াখালী মহাসড়ক
মো. লুত্ফুর রহমান, কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের বেশ কয়েকটি স্থানে বড় বড় গর্তে ট্রাক ও নানা যানবাহন আটকা পড়ার ফলে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে হাজারো যাত্রী। এমন দুর্ভোগ এখন এ সড়কের প্রতিদিনের চিত্র। এ মহাসড়কের অধিকাংশ স্থান কূপের মতো হয়ে আছে। প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। কোনো কোনো স্থান সড়ক না-কি খাল তা বোঝা মুশকিল। এমন ভয়াবহ ও দুঃসহ দুর্ভোগের মধ্যে হেলে-দুলে ঝুঁকি নিয়ে এক ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে লেগে যাচ্ছে অন্তত পাঁচ-ছয় ঘণ্টা। সড়কটি দ্রুত সংস্কার না করলে যে কোনো সময় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। শনিবার সরেজমিনে ঘুরে বিভিন্ন গাড়ির চালক, যাত্রী ও সংশ্লিষ্ট এলাকার ভুক্তভোগী লোকজনের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীরা জানান, গত কয়েক দিন আগে একটি মালবাহী ট্রাক কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের লাকসাম উপজেলার মিশ্রী এলাকার দারোগা বাড়ির সামনে গর্তে আটকা পড়ে। এতে ঢাকা-নোয়াখালী, কুমিল্লা-নোয়াখালী, কুমিল্লা-লক্ষ্মীপুরসহ কয়েকটি সড়কে আন্তঃজেলা যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় ঐ মহাসড়কের দুই পাশে আটকা পড়ে শত শত যানবাহন। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর পুলিশ এসে ট্রাকটি সরিয়ে নিলে যানবাহন চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়। তবে ঐ গর্তে বিভিন্ন যানবাহন আটকা পড়ায় এ দুর্ভোগ দিনভর লেগেই ছিল। গাড়ির চালক ও এ সড়কে যাতায়াতকারী যাত্রীদের অন্তত ১২ জন জানান, কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কে ফোরলেনের কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে গত চার বছরে এ সড়কের লালমাই উপজেলার বাগমারা বাজার, লাকসাম জংশনের মিশ্রী, জংশন ও বাইপাসসহ অন্তত ১০টি স্পটে খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় নিত্য ঘটছে দুর্ঘটনা, বিকল হচ্ছে যানবাহন।
বাসচালক বশিরুল ইসলাম জানান, ‘গত পাঁচ বছর ধরে এই সড়কের এই বেহাল অবস্থা। প্রায় সময় গর্তে যানবাহন বিকল হয়ে যাচ্ছে। সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।’ যাত্রী আনোয়ার হোসেন জানান, ‘নোয়াখালী থেকে ফিরছি, কুমিল্লা শহরে যাব। এমন দুর্ভোগের সড়কে চলাচল দুষ্কর হয়ে পড়েছে।’ বাগমারার মফিজুল ইসলামসহ কয়েক জন ব্যবসায়ী বলেন, ‘পথে পথে মানুষের দুর্ভোগ।
সড়কটি সংস্কারের জন্য গণমাধ্যমকর্মীরা প্রতিনিয়তই লিখছেন। কিন্তু কারো কোনো সাড়া নেই। লিখে তো কোনো কাজ হচ্ছে না।’ সড়ক ও জনপথ (সওজ) কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ আহাদ উল্লাহ বলেন, ‘কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের ফোরলেনের কাজ চলছে। করোনা পরিস্থিতি ও কিছু সমস্যার কারণে কাঙ্ক্ষিত গতিতে কাজ এগুচ্ছে না। তবে মহাসড়কের বেশকিছু স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্তে বৃষ্টির পানি জমে আছে। ভাঙা অংশে মেরামতের জন্য কাজ শুরু হয়েছে। আশা করি, সহসা ভোগান্তি কমে আসবে।’
