রাজশাহীতে মসজিদ মিশন সংস্থার পরিচালিত স্কুল ‘মসজিদ মিশন একাডেমি’কে জামায়াতমুক্ত করার দাবিতে মাঠে নেমেছেন রাজশাহীর মুক্তিযোদ্ধারা। গতকাল শনিবার বিকালে প্রতিকূল আবহাওয়া গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যেই স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা এক মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে মসজিদ মিশন থেকে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে অপসারণ করার দাবি জানান। নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচিতে মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, রাজশাহীর প্রাণকেন্দ্র সাহেববাজার বড়কুঠি এলাকায় মসজিদ মিশন একাডেমিতেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী চক্রান্ত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে মুক্তিযোদ্ধারা রাস্তায় না নেমে থাকতে পারে না। কারণ, মুক্তিযোদ্ধারা মনে করেন স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে সব সময় প্রতিহত করা প্রয়োজন।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য গণমাধ্যমকে বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অডিটে ধরা পড়েছে যে মসজিদ মিশন একাডেমির প্রায় ১১ কোটি টাকার কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। এই টাকা সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডে ব্যয় করা হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘মসজিদ মিশন সংস্থা জামায়াতের একটি সংস্থা। আর মসজিদ মিশন একাডেমিতে নিয়োগপ্রাপ্ত সব শিক্ষক-কর্মচারী জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।’
এদিকে সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে, জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি কার্যকরের পর এই প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষকরা গায়েবানা জানাজা পড়েছেন। বিভিন্ন সময় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষকরা গ্রেফতার হয়েছেন।’ এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অধিশাখা-২ এবং রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের প্রতিবেদনেও বিষয়টি উঠে এসেছে। এসব বিষয় নতুন করে আলোচনায় আসার পর এবার মানববন্ধন থেকে মসজিদ মিশন একাডেমির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের দাবিও তুলেছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা। মানববন্ধন থেকে আগামী ২৫ আগস্ট বিকালে একই দাবিতে একই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের রাজশাহী জেলা ও মহানগর ইউনিটের ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার ডা. আবদুল মান্নান। পরিচালনা করেন রাজশাহী থিয়েটারের সাবেক সভাপতি কামার উল্লাহ সরকার কামা। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধকালীন কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা শফিকুর রহমান রাজা, মুক্তিযোদ্ধা রবিউল ইসলাম, কবি আরিফুল হক কুমার, মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান আলী বরজাহান, দিলীপ কুমার ঘোষ, মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ, অঞ্জনা সরকার, মীর ইসতিয়াক আহম্মেদ লিমন প্রমুখ বক্তব্য দেন। মানববন্ধনে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, রাজশাহী থিয়েটার, আবৃত্তি পরিষদ, শহিদ জামিল আকতার রতন স্মৃতি সংসদসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের সদস্যরা একাত্মতা প্রকাশ করেন।
