বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসন

আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সরব উপস্থিতি, বিএনপির প্রচার প্রচারণা গোপনে

আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ২১:৪২

জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনে বইতে শুরু করেছে নির্বাচনী হাওয়া। এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী  এমপি আব্দুল মান্নানের সরব উপস্থিতি থাকলেও নীরবে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। ইতোমধ্যে এ আসনে  আওয়ামী লীগ থেকে আটজন প্রাথী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। এ দলে অনেক প্রার্থী মনোনয়ন চাওয়ায় ভোটারদের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। গত ১০ বছরে আব্দুল মান্নান এমপি এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করায়  তার প্রতিদ্বন্দ্বী থাকার কথা নয়। আওয়ামী লীগ থেকে যারা মনোনয়ন ফর্ম সংগ্রহ  করেছেন তারা হলেন: আব্দুল মান্নান এমপি, মোজাহিদুল ইসলাম বিপ্লব, খাবিরুজ্জামান বাদশা, জাকির হোসেন নবাব, ডাক্তার মকবুলার রহমান, আলমগীর শাহী সুমন, অধ্যক্ষ মুনজিল আলী সরকার ও শাহজাহান আলী। 

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে এবার  মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১৬ হাজার ৮৭৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫৪ হাজার ৮৪৩ জন ও  নারী ১ লাখ ৬২ হাজার ৩২ জন ।

 ১৯৭০ সালের নির্বাচনে এ আসনে প্রথম এমপি নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের তাহেরুল ইসলাম খান মানিক। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম সুরুজ  সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এদিকে বিএনপি প্রতিষ্ঠা লাভের পর ১৯৭৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাড. ওয়াজেদ হোসেন তরফদার এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির কর্নেল (অব.) আব্দুল মোমিন মন্ডল এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৯১-২০০১ সাল পর্যন্ত বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. হাবিবুর রহমান দুইবার এমপি নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের ১ অক্টোবরের নির্বাচনেও বিএনপির  মনোনীত প্রার্থী আলহাজ কাজী রফিকুল ইসলাম এমপি নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে  আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী কৃষিবিদ আব্দুল মান্নান এমপি নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিনি পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

বিগত সময়ে যে কোনো নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীরা এ জেলায় বেশি জয়লাভ করেন। কিন্তু ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির দুর্গে  আঘাত হানে আওয়ামী লীগ। বগুড়ার সাতটি আসনের মধ্যে দুটি আসনে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ। এর একটি আসন হলো বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা)। বর্তমান সংসদ সদস্য আবদুল মান্নান দলীয় কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি প্রতিটি ইউনিয়নে ব্যাপক গণসংযোগ করেছেন। নির্বাচনী প্রস্তুতি হিসেবে প্রতি ভোট কেন্দ্রের জন্য নির্বাচনী কমিটি গঠন করছেন। এদিকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থীরা হলেন: সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ কাজী রফিকুল ইসলাম, বগুড়া জেলা বিএনপির উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য মো. শোকরানা, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সোনাতলা পৌরসভার মেয়র আহসানুল তৈয়ব জাকির, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মাছুদুর রহমান হিরু, জিয়া শিশু-কিশোর সংগঠনের কেন্দী্রয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. মোশাররফ হোসেন চৌধুরী। এছাড়া জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় দুই নেতা অধ্যক্ষ মো. মোকছেদুল আলম ও জি.এম বাবু মন্ডলও  মনোনয়ন দৌড়ে আছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোট করার জন্য মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন সারিয়াকান্দি পৌরসভার সাবেক মেয়র আলহাজ টিপু সুলতান ।

সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান বলেন, স্বাধীনতার পরে এ আসনের দুটি উপজেলায় যত উন্নয়ন হয়েছে তা শেখ হাসিনার সরকারের আমলে হয়েছে। আমি নদী শাসন, রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, কৃষি ও বিদ্যুতের ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। আমি মনোনয়ন পেলে ভোটে বিজয়ী হবো বলে বিশ্বাস করি। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে  উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে।   

অপরদিকে নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির চোখে পড়ার মত কোনো কর্মসূচি না থাকলেও নীরবে তাদের কর্মকাণ্ড চলছে বলে দলের একাধিক নেতা জানান। উপজেলা বিএনপির সভাপতি সুজাউদ্দৌলা সনজু জানান, এখনো বিএনপির প্রার্থী মনোনীত হয়নি। পুলিশি হয়রানির ভয়ে দলের কর্মকাণ্ড গোপনে করতে হচ্ছে। কিন্তু ভিতরে ভিতরে আমাদের ভোটকেন্দ্র কমিটি গঠন প্রায় শেষ পর্যায়ে। আলহাজ কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি বিএনপির হাইকমান্ডের নির্দেশনা পেয়েই মাঠে নেমেছি। দল মনোনয়ন দিলে আমি বিপুল ভোটে জয়লাভ করবো।

জেলা বিএনপির উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য মোঃ শোকরানা বলেন, বিএনপির হাই কমান্ডের নির্দেশনা্ আমিও পেয়েছি। বিএনপির কর্মসূচি থাকলে পুলিশ তাতে বাধা দেয় তারপরও আমাদের নেতাকর্মীরা মাঠে কাজ করছেন।