মো.আতিকুল ইসলাম (জাহিদ) সহকারী শিক্ষক
রাজশাহী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ
রুপোশ এমন একটি দেশের কথা বলল যে দেশটির দক্ষিণ প্রান্ত ২০.৩৪ উত্তর অক্ষরেখায় অবস্থিত। দেশটিতে শীতকাল শুরু হয় নভেম্বর মাসে। রুপোশের সকল কথা শুনে জারিফ দেশটিকে বিশ্ব মানচিত্রে চিহ্নিত করে বলল, “জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দেশটির আর্থ সামাজিক অবস্থার নানা পরিবর্তন ঘটেছে।
ক) ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশের জনগণের মাথাপিছু জমির পরিমাণ কত ছিল? ১
খ) ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু বলতে কী বোঝায়? ২
গ) উদ্দীপকে আলোচিত দেশটিতে একটি বিশেষ ঋতুতে কাল বৈশাখী ঝড়ের মাত্রা অধিক? ব্যাখ্যা করো। ৩
ক) উত্তর: ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশের জনগণের মাথাপিছু জমির পরিমাণ ছিল .২৮ একর।
খ) উত্তর: বাংলাদেশের ক্রান্তীয় অঞ্চলের অবস্থিত হওয়ায় এ অঞ্চলের জলবায়ু ক্রান্তীয় মৌসুমী ধরণের।
বাংলাদেশের জলবায়ু মোটামোটি উষ্ণ, আর্দ্র ও সমভাবাপন্ন। মৌসুমী জলবায়ুর প্রভাব এখানে এত অধিক যে, সামগ্রিকভাবে এ জলবায়ু ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু নামে পরিচিত। এ মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাবে বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে। জুন মাসের শেষ দিকে মৌসুমি বায়ুর আগমনের সাথে সাথে বাংলাদেশের বর্ষাকাল শুরু হয়।
গ) উত্তর:উদ্দীপকে আলোচিত দেশটি হলো বাংলাদেশ। এ দেশটিতে গ্রীষ্মকালে কালবৈশাখী ঝড়ের মাত্রা অধিক।
বাংলাদেশের অবস্থা এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণে। বাংলাদেশ ২০.৩৪ উত্তর অক্ষরেখা থেকে ২৬.৩৮ উত্তর অক্ষরেখার মধ্যে অবস্থিত। দেশটির অন্যতম ঋতু হলো গ্রীষ্মকাল। মার্চ হতে মে মাস পর্যন্ত বাংলাদেশে গ্রীষ্মকাল। এটিই দেশের উষ্ণতম ঋতু।
বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালে কালবৈশাখী ঝড়ের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। এ ঋতুতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রী সে. এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২১ ডিগ্রী সে.পর্যন্ত হয়ে থাকে। এ সময়ে সামুদ্রিক বায়ুর প্রভাবে দেশে দক্ষিণ হতে উওর দিকে তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে বেশি থাকে। গ্রীষ্মকালে সূর্য উওর গোলার্ধের কর্কটক্রান্তি রেখার নিকটবর্তী হওয়ায় বায়ুর চাপের পরিবর্তন হয় এবং বাংলাদেশের উপর দিয়ে দক্ষিণ পশ্চিমে মৌসুমী বায়ু প্রবাহিত হতে থাকে। একই সময়ে পশ্চিম ও উওর- পশ্চিম দিক হতে শুষ্ক ও শীতল বায়ু প্রবাহিত হয়। এ ঝড়কে কালবৈশাখী বলা হয়। এছাড়া এ সময় সৃষ্ট তীব্র নিম্নচাপের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে প্রায়ই ঘুর্ণিঝড় হয়ে থাকে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়।
উদ্দীপকে রূপোশের দেখা দেশটির অক্ষরেখা ২০.৩৪ উত্তর এবং দেশটিতে শীতকালের সময়সীমা শুরু হয় নভেম্বর থেকে যা বাংলাদেশের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। আর বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালে কালবৈশাখীর মাত্রা অধিক।
