ক্যাম্পাস খুলবে কবে?

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২০, ২০:৫৯

 

চীনের ‘উহান’ শহরে করোনা ভাইরাসের একটি প্রজাতির সংক্রমণ দেখা দেওয়ার পর থেকেই ভাইরাসটি বিশ্ব জুড়ে মহামারি আকার ধারণ করেছে। ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাবের দিক থেকে

বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। করোনা ভাইরাস এমন একটি সংক্রামক ভাইরাস—যা এর আগে কখনো মানুষের মধ্যে ছড়ায়নি। করোনা ভাইরাসের করাল গ্রাসে সারা বিশ্ব জর্জরিত হওয়ার

কারণে মানুষ এখন অনেকটা গৃহবন্দি জীবনযাপন করছে। ভাইরাসটি মহামারি রূপ ধারণ করায় গত মার্চ মাস থেকে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। দীর্ঘ পাঁচ

মাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি সেপ্টেম্বর মাসে বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার নানা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। উক্ত পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাস

খুললে এর পরিণতি কী হবে বা হতে পারে তা নিয়ে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মতামত তুলে ধরেছেন— ইসরাত জাহান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী ফারিয়া আলম বলেছেন—

 

সেপ্টেম্বরে ক্যাম্পাস খোলার কথাটা আমিও শুনেছি। তবে জানা নেই আদৌ খুলবে কিনা? কিন্তু যাই হোক এরকম পরিস্থিতি চলতে থাকলে খোলা অসম্ভব। আর খুললেও সব কিছু করোনার আগের পরিস্থিতির মতো হবে না হয়তো। যতদিন না পর্যন্ত ভ্যাকসিন পাওয়া যায় কেউই চাইবে না নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাধারণ একাডেমিক পড়াশোনায় ফিরতে। এই সময়ে ক্লাস খোলার মানে হচ্ছে আমাদের নিজের জন্য নিজে বিপদ ডেকে আনা। যদিও এতদিন ঘরে বসে জীবনযাপন প্রায় দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। ক্যাম্পাসের সেই দিনগুলোকে অনেক মিস করি। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া, ঘুরতে যাওয়া, ডিপার্টমেন্টের বিভিন্ন অনুষ্ঠান... এগুলোকে অনেক মিস করি। আসলেই এভাবে জীবনযাপন কষ্টকর। আমিও ক্যাম্পাসে ফিরে যেতে চাই। ফিরে যেতে চাই সেই স্বাভাবিক জীবনযাপনে। কিন্তু করোনায় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় নিজেকে অনলাইনভিত্তিক পড়াশোনায় জড়িয়ে রেখেছি। এক জন সচেতন শিক্ষার্থী হিসেবে আমিও একটি সুস্থ ক্যাম্পাসে ফিরে যেতে চাই। যেখানে এই করোনা নামক শত্রুর কোনো ভয় থাকবে না; থাকবে না নিজের জীবনের ঝুঁকি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ভূ-তাত্ত্বিক

বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আতকিয়া

হাবিবী বলেছেন—

 

বিশ্ববিদ্যালয় খোলার খবরাখবর দৈনিক পত্রিকা-টেলিভিশনে শোনা যাচ্ছে, যদিও তা প্রাথমিক আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে বলা হচ্ছে কিন্তু আসলেও কি বিশ্ববিদ্যালয় খোলার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া খুবই প্রয়োজনীয়? আসলেই না। এক জন সচেতন শিক্ষার্থী হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার যথাযথ ব্যবস্থা গৃহীত না হলে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার প্রয়োজন আমি দেখছি না। কারণ বাংলাদেশের বেশির ভাগ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক হলের ব্যবস্থা আছে, শতাধিক থেকে হাজার শিক্ষার্থী সেখানে থাকে, কিছু কিছু জায়গায় গণরুম ব্যবস্থাও সচল আছে। এই করোনাকালে এতোটা ঝুঁকি নিয়ে হলে অনেকেই হয়তো যেতে চাইবে না, আবার কিছু শিক্ষার্থীর সামর্থ্যও নেই বাসা ভাড়া করে থাকার, তাই সেদিকটাও বিবেচনা করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাসগুলো যদিও অনলাইনে সম্ভব হচ্ছে তবে ক্লাসে বসে ক্লাস করার সেই অনুভূতির সঙ্গে বহু তফাত। করোনা পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের করোনা ঝুঁকিতে ঠেলে দেওয়া একদম অনুচিত হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় না খোলাটাই আমি যুক্তিযুক্ত বলে মনে করছি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী তনুশ্রী সাহা বলেছেন—

 

করোনার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের নোটিশ পেয়ে সেই মার্চের ১৭ তারিখ হল থেকে বাসায় আসি। এ পর্যন্ত ধাপে ধাপে কেবল বন্ধের নোটিশ-ই পেতে থাকি। অনেকদিন দেখা পাই না আমার প্রাণের ক্যাম্পাসের। রুটিন মাফিক ক্লাস, ক্লাস শেষে ঝুপড়িতে আড্ডা, এক্সামেরপ্যারা, শহিদ মিনারে বন্ধুদের সঙ্গে গানের আসর জমে না। দিন কাটে অনলাইন ক্লাস আর নিজের বানানো কিছু রুটিনে। তবে অনলাইন ক্লাসে যেন সেই বেঞ্চে বসে বোর্ডে তাকিয়ে ক্লাস করার শান্তিটা পাই না।   আবার যখন ক্যাম্পাস খোলার আনাগোনা চলে তখন বাইরের জগত্ আমায় হাতছানি দিয়ে ডাকে। ব্যস্ত রুটিন আমায় নতুন উদ্যমের স্বপ্ন দেখায়। তবে মুদ্রার উলটো পিঠের মতো করে আবার ভাবী ক্যাম্পাস খুললে করোনার ঝুঁকি আরো বেড়ে যাবে না তো? দেশের প্রায় প্রতিটা জেলা থেকে সবাই যখন ক্যাম্পাসে আসব তখন আমরা সবাই নিরাপদে ক্যাম্পাসে আসতে পারব কি পারব না, নাকি এর থেকেই করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল আকার ধারণ করতে পারে, নাকি আমরা আবার সচেতনতা ও সাহসিকতার মতো দৃঢ় মনোবল নিয়ে এগিয়ে যাব—এ নিয়েও মনে চলছে নানা দ্বন্দ্ব।