টক অব দ্য ওয়ার্ল্ড :করোনা ভ্যাকসিন আসছে

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২০, ২১:৫৭

সুধীর সাহা

ভ্যাকসিন আসছে—এর আশায় দিন গুনছেন বিশ্ববাসী। বাংলাদেশের মানুষও এ আশায় দিন গুনছেন। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রেজেনেকার যৌথ উদ্যোগটিকেই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে এগিয়ে থাকা উদ্যোগ হিসেবে বিশ্ববাসী মেনে নিচ্ছেন। তাদের অগ্রগামী সংবাদটি ইতিমধ্যে ‘ল্যানসেট’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, যে পত্রিকাটি বিজ্ঞানীমহলে স্বীকৃত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও তেমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছে। সফলতার দৌড়ে যুক্তরাষ্ট্রের মর্ডানা এবং ফাইজারের যৌথ উদ্যোগ, চীনের কোম্পানি সিনোভেক এবং মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়। মারডক চিলড্রেনস রিসার্চ ইনস্টিটিউটও সমান তালে এগিয়ে আছে। তারা প্রত্যেকেই পরীক্ষার তৃতীয় পর্যায়ে রয়েছেন। 

পৃথিবীর সব মানুষ যেন আবিষ্কৃত ভ্যাকসিনটি প্রথম সুযোগেই পেতে পারে তার ওপর কাজ করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ এবং গাভি। গাভি হলো ভ্যাকসিন বিষয়ক আন্তর্জাতিক জোট। তাদের হিসেব মতে, এখন পর্যন্ত ৭৫টি দেশ তাদের নিজস্ব অর্থে ভ্যাকসিন ক্রয় করার আশা ব্যক্ত করেছে। বাংলাদেশ এই ৭৫টি দেশের দলে নেই। অর্থাত্ নিজের অর্থে ভ্যাকসিন ক্রয় করার ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো উদ্যোগ বাংলাদেশ এখনো গ্রহণ করেনি। ইতিমধ্যে অনেক দেশ ভ্যাকসিন উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তিও সম্পাদন করেছে, যেন তারা সময় মতো এবং তাদের প্রয়োজন মতো ভ্যাকসিন পেতে পারে। বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত এমন কোনো চুক্তি করার প্রয়াস দেখায়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ এবং গাভির পলিসি অনুযায়ী এ যাবত্কাল ধরে যা প্রচলিত আছে তা হলো—যেসব দেশের নাগরিকের মাথাপিছু আয় ৪ হাজার ডলারের বেশি, তাদের ভ্যাকসিন ক্রয় করে নিতে হবে। অন্যদিকে যেসব দেশের নাগরিকের মাথাপিছু আয় এর চেয়ে কম, সেসব দেশ বিনা মূল্যে ভ্যাকসিন পাবে। বাংলাদেশ এই দলে পড়েছে, কেননা এ দেশের নাগরিকদের মাথাপিছু আয় ৪ হাজার ডলারের নিচে।

পৃথিবীর অনেক দেশে শতাধিক সংস্থা গবেষণা ও ভ্যাকসিন আবিষ্কারে নিয়োজিত আছে। গত জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে এই উদ্যোগ। সেই হিসেবে যদি এক বছরের কম সময়ের মধ্যে সফল একটি ভ্যাকসিন মানুষের উপকারে এসে যায়, তার চেয়ে ভালো সংবাদ আর কিছু হতে পারে না। ভ্যাকসিনটি মানুষের শরীরের ভেতরের রোগপ্রতিরোধক্ষমতাকে উজ্জীবিত করে তুলবে, যা ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করে অসুস্থ হওয়া থেকে রক্ষা করবে। এর ফলে লকডাউন কিংবা মাস্ক ব্যবহার করা কিংবা সামাজিক দূরত্ব রক্ষার বিধিনিষেধ শিথিল করা সম্ভব হবে।

ভ্যাকসিন আসছে এবং ভাইরাসকে মানুষ জয় করছে—এটা এখন অনেকটাই বাস্তব ভরসা; কিন্তু এ সময়ে বাংলাদেশের সামনে আরো একটি বড় চ্যালেঞ্জ এসেছে। ভ্যাকসিন একসঙ্গে যতগুলো প্রয়োজন তা বাংলাদেশ বা অন্য কোনো দেশ পাবে না—এটা নিশ্চিত। প্রথম তৈরি করা ডোজগুলো আসবে এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাউকে কাউকে এটি দিতে হবে। এজন্য সরকারের একটি পরিকল্পনা ও শক্ত ম্যানেজমেন্ট প্রয়োজন। সরকারের রেকর্ডে থাকা প্রয়োজন—কারা প্রথম ধাপে পাবে, কারা দ্বিতীয় ধাপে পাবে ইত্যাদি। অর্থাত্ সরকারের একটি টিকা প্রদানের পরিকল্পনা এবং প্রকল্প থাকতে হবে। যেসব করোনাযোদ্ধা করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করছেন সেই চিকিত্সক, চিকিত্সাকর্মী, পুলিশ, সেনা, সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকারের কর্মী এতে অগ্রাধিকার পেতে পারেন। অগ্রাধিকার পেতে পারেন বয়স্ক এবং শ্বাসকষ্ট বা ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত রোগীরা। এরপর আসতে পারে যুবক কিংবা শিশুরা। তবে এ বিষয়ে পরিকল্পনা, কার্যবিধি এবং সার্বিক ম্যানেজমেন্ট নিয়ে কাজ করতে হবে সরকারকে এবং তা করতে হবে এখনই।

n লেখক :সাবেক সেনা কর্মকর্তা