১৫ আগস্ট হত্যার আসল খলনায়ক জিয়া :প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২০, ২২:৩৪

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যাকাণ্ডে জিয়াউর রহমানকে আসল খলনায়ক হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জনপ্রিয়তা এবং জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট করতে না পেরে তাকে খুন করা হয়। জিয়াউর রহমান শুধু জাতির পিতার হত্যার সঙ্গে নয়, জাতীয় চার নেতা এবং একের পর এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর মুক্তিযোদ্ধা অফিসার ও সৈনিকদের হত্যার সঙ্গে জড়িত, খালেদা জিয়াও ক্ষমতায় আসার পরে ঠিক একই কাজ করেছিলেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে গতকাল রবিবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউশনে ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি’ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি এ সভায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, দীর্ঘদিন তারা চেষ্টা করেছিল বঙ্গবন্ধুকে জনগণের কাছ থেকে সরাতে। কিন্তু পারেনি। তাই তারা এ ধরনের হত্যাকাণ্ড (বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড) ঘটিয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা খুনি মোশতাককে ক্ষমতায় রাখে নাই। আসল যিনি নায়ক, মানে খলনায়ক তিনি (জিয়া) চলে আসল সামনে। তিনি হলেন জিয়াউর রহমান। মোশতাকের পতনের পর জিয়াউর রহমানই হয়ে গেল রাষ্ট্রপতি, একাধারে সেনাপ্রধানও। সে সময় অনেকে কেন জিয়াউর রহমানকে সমর্থন দিয়েছিল, সেই প্রশ্নের উত্তর ‘কোনোদিন পাননি’ মন্তব্য করে সরকারপ্রধান বলেন, স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় যারা বিশ্বাস করে, তারা কি এটা পারে? এই দেশে যত রক্তপাত, যত হত্যাকাণ্ড, যা কিছু—সবই তো সেই থেকে শুরু। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই ষড়যন্ত্র চলছিল।

জিয়া ও খালেদা জিয়াদের বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পুরস্কৃত ও মদত প্রদানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান যেমন সেই আবদুল আলিম, মাওলানা মান্নান থেকে শুরু করে শাহ আজিজদের মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী এবং উপদেষ্টা বানিয়েছিল, একইভাবে আমরা দেখেছি খালেদা জিয়া সেই নিজামী থেকে শুরু করে যারা একেবারে সরাসরি বুদ্ধিজীবী হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের মন্ত্রী বানিয়েছিল, খুনি রশীদ এবং হুদা—তাদের ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচনে ভোট চুরি করে পার্লামেন্টে এনে বিরোধী দলের  নেতার আসনে বসায়।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের কথা স্মরণ করে আবেগজড়িত কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৪৫ বছর পার হয়ে গেছে। এটা ভাবতে আমাদের অবাক লাগে। যিনি আমাদের স্বাধীনতা এনে দিলেন, মুক্তি এনে দিলেন, আত্মপরিচয়ের সুযোগ দিলেন, একটা জাতি হিসেবে আত্মমর্যাদা এনে দিলেন—তাকেই (বঙ্গবন্ধু) হত্যা করা হয়েছিল এ দেশের মাটিতে। এ সময়  মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এবং প্রতিবেশী দেশটির জনগণ বাংলাদেশের পাশে থাকায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তিনি (ইন্দিরা গান্ধী) বঙ্গবন্ধুর মুক্তির জন্য সারা বিশ্বে  প্রচার করেছিলেন।’

জাতির পিতার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্রের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে ফিরে বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্র পরিচালনা শুরু করেন। সেই সময় প্রয়োজন ছিল এদেশের সব মানুষের একাত্ম হয়ে বঙ্গবন্ধুর পাশে দাঁড়ানো এবং সহযোগিতা করা। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য যে, তাকে হত্যা করার এই প্রক্রিয়াটা শুরু করার জন্য দেখা গেছে যে, আমাদের দলের অভ্যন্তরে নানা ধরনের খেলা শুরু হয়, কিছু লোক যারা মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন দালালি করতে প্রচেষ্টা চালিয়েছিল। এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, কিছু লোক ঐ সময় নানা ধরনের সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠে। যারা সেই সময় বঙ্গবন্ধুর প্রতিটি পদক্ষেপ গ্রহণের পর পর সমালোচনা করেছে বা লিখেছে—হ্যাঁ সমালোচনার প্রয়োজন আছে। কিন্তু তাদের লেখনী ও কার্যকলাপ এমন ছিল, যার মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে সারা বাংলাদেশে অপবাদ ছড়ানো হয়েছিল। তিনি বলেন, তাদের (ষড়যন্ত্রকারী) উদ্দেশ্যটাই ছিল যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যে জনপ্রিয়তা সারা বাংলাদেশের মানুষের কাছে, যে গ্রহণযোগ্যতা- সেটা নস্যাত্ করা। সেটা যখন তারা একান্তভাবেই পারেনি, তার পরই কিন্তু তারা এই হত্যার পথ বেছে নেয়। বঙ্গবন্ধুর খুনি কর্নেল ফারুক ও কর্নেল রশীদ বিবিসিকে যে সাক্ষাত্কার দিয়েছিল, সেখানেও তারা এ কথাই বলেছিল। 

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার ব্যর্থ চেষ্টা এবং এদেশের মানুষের হূদয়ে তার প্রতি গভীর ভালোবাসার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঐ কয়েকটা খুনি, বেইমান বা মুনাফেক ছাড়া অগণিত জনগণ জাতির পিতার জন্য এখনো কাঁদে। বঙ্গবন্ধুর নামটা তারা মুছে ফেলার এত চেষ্টা করার পরও। ২১ বছর চেষ্টা করেছে, কিন্তু সেই নাম (বঙ্গবন্ধু) মুছতে পারে নাই। যতই চেষ্টা চালাক, আজকে শুধু বাংলাদেশে না, বাংলাদেশ ছাড়িয়ে বিশ্বব্যাপী জাতির পিতার নাম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নাম আজকে উজ্জ্বল।

সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সমন্বয়ক আমির হোসেন আমু, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। সভায় বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবিতা আবৃত্তি করেন সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি। অনুষ্ঠানে ‘মুক্তির মহানায়ক’ শীর্ষক ভার্চুয়াল চিত্রকর্ম ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।