অবশেষে ডা. সুলতানা পারভীনের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২০, ২২:৫০

অবশেষে মেলান্দহের বহুল আলোচিত সেই ডাক্তার সুলতানা পারভীনের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা হয়েছে। শনিবার রাতে সুলতানা পারভীনের ভগ্নিপতি আসাদুল হাফিজ চৌধুরী বাদী হয়ে মেলান্দহ থানায় এ মামলা করেন।

মেলান্দহ থানার অফিসার ইনচার্জ রেজাউল করিম জানান, মামলায় সুনির্দিষ্ট কোনো আসামি করা হয়নি। বাদী আরজিতে ডাক্তার সুলতানা পারভীনকে আত্মহত্যার জন্য প্ররোচিত করা হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করেছেন। আত্মহত্যার জন্য কে বা কারা প্ররোচিত করেছে? এমন প্রশ্নে ওসি বলেন, তদন্ত চলছে। মামলার সূত্র ধরেও তদন্ত হচ্ছে। সন্দেহভাজনদের মোটামুটি শনাক্ত করা হলেও অধিকতর তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দোষীসাব্যস্ত করা যাবে না। পোস্টমর্টেম এবং ভিসেরা রিপোর্টের জন্যও অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

গত শনিবার স্বজনদের নিয়ে ডা. সুলতানা পারভীনের কক্ষ থেকে প্রায় ২৩ হাজার টাকার চেকে স্বাক্ষরিত ২০ হাজার টাকার একটা পাতা উদ্ধার করা হয়েছে।

মৃত্যুর আগে ডা. সুলতানা পারভীনের লেখা ডায়েরিতে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কোনো ইঙ্গিত পাওয়া গেছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, ডায়েরিতে অনেক লেখা আছে। তদন্তের স্বার্থে এগুলো বলা যাচ্ছে না। তদন্তে প্রকৃত দোষী শনাক্তের পরই আসামি গ্রেফতারেরও আশ্বাস দেন তিনি। তবে এ ঘটনায় যাতে কোনো নিরীহ লোক হয়রানি না হন; সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

মেলান্দহ হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফজলুল হক জানান, গণমানুষের গাইনি ডাক্তার খ্যাত সুলতানা পারভীনের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে মেনে নিতে পারছেন না। এই মৃত্যুর অন্তরালে জড়িতদের শাস্তির দাবি করেছেন।

সুলতানা পারভীনের পিতা মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন আজাদ, বোন মেরিনা পারভীন এবং ভগ্নিপতি আসাদুল হাফিজ চৌধুরী ২১ আগস্ট জামালপুর প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। সেখানে তারা সুলতানা পারভীনের চোখেমুখে ও গলায় আঘাতের চিহ্ন থাকার কথাও বলেছেন। সুলতানার মোবাইলে হত্যার হুমকি-এসএমএসর সূত্র ধরে অনুসন্ধান করলে অনেক কিছুই বেরিয়ে আসবে। এমন দাবি সুলতানার পিতা আলাউদ্দিন আজাদের।

উল্লেখ্য, ১৬ আগস্ট সন্ধ্যায় ডা. সুলতানা পারভীনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।