বর্ষায় হাওরে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২০, ২১:০৯

বাহন ট্রলার বা নৌকা

শ্যামলেন্দু পাল, নেত্রকোনা প্রতিনিধি

বাংলাদেশের হাওর জেলাগুলোর অন্যতম নেত্রকোনা জেলা। হাওরের লোকজনের মুখে একটা কথা সব সময় শোনা যায়, তা হলো, ‘বর্ষায় নাও, শুকনায় পাও (পা)।’ হাওরের প্রবল ঢেউ আর আফালে (হাওরের এক প্রকার বড় ধরনের ঝড়কে স্থানীয় ভাষায় আফাল বলে) হাওরের গর্ভে বিলীন হচ্ছে গ্রাম আর বাড়িঘর। হাওরে এ অবস্থায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকা বা ট্রলারে লোকজনকে চলাচল করতে হয়। গত ৫ আগস্ট নৌকাডুবে প্রাণ হারায় ১৮ জন। হাওরবাসী তাদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি জানিয়েছেন।

গত পাঁচ বছরে খালিয়াজুরী উপজেলার কমপক্ষে আটটি গ্রাম বিলীন হয়ে গেছে। বর্ষাকালে হাওরের গ্রামগুলো পরিণত হয় দ্বীপে। সন্ধ্যার পর ভয়ে আর আতঙ্কে কেউ নৌকায় চলাচল করতে পারে না। সামান্য ঝড় হলেই বন্ধ হয়ে যায় নৌ চলাচল। কোনো কোনো সময় দুই-তিন দিনও যোগাযোগ বন্ধ থাকে।  হাওর এলাকার বাসিন্দা হারুন অর রশিদ, উন্নয়ন কর্মী মহসিন মিয়া এবং চাকরিজীবী বর্ষা সরকারসহ এলাকার লোকজন জানান, বর্ষাকালেই হাওরের যত সমস্যা। ঝড়বৃষ্টি হলেই নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

তারা আরো বলেন, ধনু নদী দিয়ে প্রতিদিন সিলেট আর ঢাকায় শত শত বড় কার্গো পণ্য নিয়ে চলাচল করে, এতে করেও গ্রাম ভাঙছে। প্রতি বছর হাওরের ভাঙনে গ্রাম বিলীন হলেও গ্রামগুলো রক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। হাওরের পরিবেশ নিয়ে কাজ করেন এমন একজন লেখক সঞ্জয় সরকার বলেন, হাওর উপজেলাগুলোর মধ্যে খালিয়াজুরী উপজেলাই সবচেয়ে দুর্দশাগ্রস্ত উপজেলা। খালিয়াজুরীর আবুল হোসেন এবং নরপুর বোয়ালী গ্রামের আব্দুল মোনায়েম বলেন, বর্ষার সময় জেলার হাওর উপজেলাগুলোতে হাওরের উত্তাল ঢেউয়ের কারণে বেশির ভাগ শিক্ষার্থী নৌকাডুবির ভয়ে স্কুলে যেতে পারে না। প্রায় পাঁচ-ছয় মাস শিক্ষার্থীরা শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত থাকে।

নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, হাওরের গ্রামগুলোকে ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা করতে হলে বড় ধরনের প্রকল্প নিতে হবে এবং এর জন্য প্রয়োজন বেশি বরাদ্দ। পানি উন্নয়ন বোর্ড জরিপ চালাচ্ছে এবং প্রকল্প নেওয়া হবে।