সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার সদর, প্রতাপনগর ও শ্রীউলা ইউনিয়নে আম্ফানে বেড়িবাঁধ ভাঙনের পর বর্তমানে নদীর পানির অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ও প্রচুর বৃষ্টিপাতের প্রভাবে রিং বাঁধ ভেঙে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। খাদ্য, সুপেয় পানি, স্যানিটেশন ব্যবস্থা না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে এলাকার মানুষ। সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়া ও বিদ্যুত্ না থাকায় যোগাযোগের অভাবে মানুষ বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো বসবাস করছে। এর আগে তিনটি ইউনিয়নের একাধিক স্থানে আম্ফানের তাণ্ডবে বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে মানুষ ঘরবাড়ি, মত্স্য ঘের, ফসল, সহায় সম্পদ হারিয়ে করুন পরিণতির সঙ্গে যুদ্ধ করে কোনোরকমে বেঁচে ছিল। গত বৃহস্পতিবার শুক্রবার, শনিবার, রবিবার নদীর পানি স্বাভাবিক জোয়ারের থেকে কমপক্ষে তিন-চার ফুট বেশি উঁচু হয়ে রিং বাঁধ ভেঙে ইউনিয়ন তিনটির নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়। রবিবার পর্যন্ত প্রতাপনগর ইউনিয়নের ১৭টি গ্রামের ৩৬ সহস্রাধিক মানুষ, শ্রীউলা ইউনিয়নের ২২টি গ্রামের ৩৭ সহস াধিক মানুষ এবং আশাশুনি সদর ইউনিয়নের ৯টি গ্রামের প্রায় ৭ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। প্রতাপনগর ও শ্রীউলা ইউনিয়নের মানুষ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র, স্কুল, বাড়ির ছাদ ও রাস্তার ওপর পলিথিন দিয়ে বসবাস করছে। পুরো এলাকার সড়ক ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। খাদ্য সংকট ও সুপেয় পানির অভাব প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে। স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। পশু পাখির বসবাস ও খাদ্য জোগান দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কাঁচা ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ছে। পানি আটকানো সম্ভব না হওয়ায় পানি পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের দিকে ধাবিত হচ্ছে। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা, উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। মূল বাঁধ নির্মাণের কাজ এখনই শুরু সম্ভব না হলেও দ্রুত রিং বাঁধ করে এলাকাবাসীকে রক্ষার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জেলা প্রশাসক ঘোষণা দিয়েছেন।
শরীয়তপুরে আবারও বাড়ছে বন্যার পানি
ডামুড্যা (শরীয়তপুর) সংবাদদাতা জানান, শরীয়তপুরে আবারও দ্বিতীয় দফায় বাড়ছে বন্যার পানি। গত পাঁচ দিনে শরীয়তপুরের সুরেশ্বর পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি কমে বিপত্সীমার ১১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও হঠাত্ তা বেড়ে বিপত্সীমার ৪৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে ও জোয়ারের পানিতে পদ্মা তীরবর্তী নিচু এলাকা ডুবে গেছে। এছাড়া যেসব এলাকা থেকে পানি নেমে গিয়েছিল তাও আবার নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে। এদিকে বন্যাদুর্গত এলাকায় দেখা দিয়েছে পানিবাহিত নানা রোগ, বিশুদ্ধ পানির অভাবসহ প্রচণ্ড খাদ্য সংকট। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে কিছু ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হলেও অনেক অঞ্চলে এখনো পৌঁছায়নি কোনো খাদ্যসহায়তা। এখনো পানিবন্দি অনেকের বাড়িঘর তলিয়ে আছে বন্যার পানিতে। কোনোমতে খেয়ে না খেয়ে বহু কষ্টে দিন কাটাচ্ছে তারা।
শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবিব জানান, উত্তরাঞ্চলে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে সুরেশ্বর পয়েন্টে বিপত্সীমার ৪৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে হঠাত্ করে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীতে সে াত ও ঢেউ বেড়েছে। এতে নতুন করে নদী ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় পানি উন্নয়ন বোর্ড সতর্ক রয়েছে বলে জানান তিনি।
