স্পোর্টস রিপোর্টার
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) বাদে শুধু স্থানীয় ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণে আরেকটি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আয়োজনের কথা বছর দুয়েক আগেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল। যদিও, এতদিনে কেটে গেলেও সেই টুর্নামেন্ট এখনো আলোর মুখ দেখেনি, এমনকি টুর্নামেন্টকে ঘিরে বিসিবির কোনো উদ্যোগ বা পরিকল্পনার কথাও শোনা যায়নি।
এই যখন অবস্থা তখন নতুন করে আরেকটি ভিন্ন টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আয়োজনের দাবি উঠলো। দাবিটি জানালেন শাহরিয়ার নাফিস। তিনি মনে করেন বিপিএল বাদে কেবল স্থানীয় ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণে আরেকটা ভিন্ন টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট থাকলে সেটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য বেশ ইতিবাচক একটা ব্যাপার হবে।
বিপিএলে সবচেয়ে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের একজন হলেন শাহরিয়ার। খেলেছেন সবগুলো আসরই। এবার খেলছেন রাজশাহী কিংসের হয়ে। গতকাল মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘আইপিএল বলেন বা বিপিএল বলেন, অবশ্যই গ্লোবাল টুর্নামেন্ট। এখানে যখন আমরা দেখি অনেক সময় বিদেশি ক্রিকেটার, সুপারস্টাররা বেশি পারফর্ম করছে। স্থানীয় ক্রিকেটাররা তা পাড়ছে না। দেখুন প্রত্যেকটা দেশের কিন্তু একটা নির্দিষ্ট নিজস্ব টুর্নামেন্ট থাকে। এখান থেকে পারফর্ম করে এসেই ক্রিকেটাররা ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে এক্সপোজার পায়।’
জাতীয় দলের সাবেক এ সহ-অধিনায়ক মনে করেন, এরকম একটা টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে সেটা বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটকেই পাল্টে দিতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, আমি বিশ্বাস করি আমাদের প্রিমিয়ার লিগের সাথে বা জাতীয় লিগের সাথে বা বিসিএলের সাথে যদি একটা ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট থাকতো, তা হলে লোকাল ক্রিকেটাররা সেখানে খেলে প্রস্তুত হয়ে টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টটা বুঝে বিপিএলে আরো ভালো পারফরম করতে পারত। আমি বিশ্বাস করি, এতে ওভার অল বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি পারফরম্যান্সে উন্নতি আসতো।’
নাফিসের চোখে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিপিএলই সবচেয়ে বড় আর গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্ট। সুযোগ কম হলেও এখানেও স্থানীয় ক্রিকেটারদের পক্ষে নিজেদের মেলে ধরা সম্ভব বলে মানছেন তিনি। বললেন, ‘বাংলাদেশের দৃষ্টিকোণ থেকে বিপিএল সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ও বড় টুর্নামেন্ট। সব থেকে বড় এক্সপোজারের জায়গা। প্রত্যেকটা প্লেয়ারই বিপিএলে পারফর্ম করার জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকে এবং সবাই চায় এখানে নিজেকে মেলে ধরতে। আমি আশা করি, বিপিএলে বরাবরের মতো, আমরা যারা দেশের স্থানীয় ক্রিকেটার আছি, আমরা ভালো করব, অ্যালং ইউথ দা ইন্টারন্যাশনাল স্টার্স।’
যদিও, রাজশাহী কিংসের প্রথম ম্যাচে মাঠেই নামানো হয়নি শাহরিয়ার নাফিসকে। যদিও, সেই ম্যাচে ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে ৮৩ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজয় বরণ করতে হয় রাজশাহীকে। নাফিস মানছেন, প্রথম ম্যাচ হেরে গিয়ে ব্যাকফুটে আছে তার দল। যদিও, তিনি দুশ্চিন্তার কোনো কারণ দেখছেন না। বললেন, ‘প্রত্যেকটা দলই জয় দিয়ে শুরু করতে চায়। তবে বিপিএল খুবই লম্বা একটা টুর্নামেন্ট। গ্রুপ পর্বে বারোটা ম্যাচের টুর্নামেন্ট। আমরা বিগত সময়ে প্রত্যেকটা টুর্নামেন্টে বিপিএলে দেখেছি, প্রত্যেকটা দলই প্রথম কয়েকটা সঠিক কম্বিনেশন তৈরির জন্য সময় নেয়। এর মধ্যে যদি জিতে যায় তা হলে ভালো। হারলেও দুশ্চিন্তার কারণ নেই। বহুবার আমরা দেখেছি প্রথম তিনটা-চারটা ম্যাচ দুর্দান্ত শুরু করার পরও অনেক দল প্লে-অফে জেতে পারেনি। আবার কোনো টিম প্রথম কয়েকটা ম্যাচে ভালো না করার পরও ফাইনাল পর্যন্ত গেছে। সো এতে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। চিন্তা ভাবনারও কোনো কারণ নেই। প্রত্যেকটা টিমের মতো রাজশাহী কিংসও সঠিক কম্বিনেশন তৈরি করার জন্য প্রথম দু-তিনটা ম্যাচে হয়তো একটু সময় লাগবে। আর সবাই প্রফেশনাল ক্রিকেটার; ফার্স্ট ম্যাচে যে ভুল-ত্রুটিগুলো হয়েছে; বিশ্বাস করি সেগুলো সেকেন্ড ম্যাচে সেগুলো আর হবে না।’
