এবার ‘আইন সংস্কার’ নিয়ে খোদ ইসিতেই ভিন্ন মত

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২০, ২২:৩৮

এবার ‘আইন সংস্কার’ নিয়ে খোদ নির্বাচন কমিশনেই (ইসি) ভিন্নমত দেখা দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনাররা বলছেন, তাদের মতামত উপেক্ষা করে আরপিও সংশোধনের প্রস্তাবনা আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় ও স্থানীয় সরকারের নির্বাচনী আইনের প্রস্তাবিত সংস্কার নিয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। এসময় তিনি বলেন, প্রার্থিতা সরাসরি বাতিলের একক ক্ষমতা থেকে সরে আসা নির্বাচন কমিশনের একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বলে মনে করি। এতে নির্বাচন কমিশন নখ-দন্তহীন বাঘ নয়, বিড়ালে পরিণত হবে। আমি এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জ্ঞাপন করছি।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) বাংলায় রূপান্তর করে আইনি রূপ দিতে চেয়েছিল কমিশন। সেই আলোকে ইসির আইন সংস্কার কমিটি আরপিও বাংলায় করে প্রস্তাবনাও প্রস্তুত করে। কিন্তু সেই প্রস্তাবনা আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর সময় মৌলিক ও পদ্ধতিগত ১০টি ধারার ১১টি উপধারা বাদ পড়ে যায়। এর মধ্যে অন্যতম তপশিল ঘোষণা, কমিশনের প্রার্থিতা বাতিল, ভোটকেন্দ্রের ভোট বন্ধ, এজেন্ট নিয়োগ, জামানত বাজেয়াপ্ত ইত্যাদি। যা নিয়ে কমিশনেই তীব্র সমালোচনা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসির আইন সংস্কার কমিটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম ইত্তেফাককে বলেন, আইন সংস্কার কমিটির প্রস্তাবনায় সবগুলো ধারা রাখা হয়েছিল। মৌলিক ধারাগুলো বাদ পড়ার কথা নয়। প্রস্তাবনা থেকে কীভাবে বাদ পড়ল তা জানি না।

সোমবার ‘স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন পরিচালনা আইনের খসড়া অনুমোদন ও বিবিধ’ বিষয়ে সিইসি কে এম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশনের ৬৯তম সভায় এ সংক্রান্ত আন-অফিসিয়াল নোট (ইউও নোট) দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য নির্বাচন কমিশনারদের। পরে সাংবাদিকদের কাছে কমিশন সভার প্রস্তাব সম্পর্কে তিনটি বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করে ??‘নোট অব ডিসেন্ট’ এর তথ্য তুলে ধরেন মাহবুব তালুকদার। 

যে তিন বিষয়ে এবারের ভিন্নমত মাহবুব তালুকদারের সেগুলো হলো— স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নাম-পদবি পরিবর্তন; গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশকে আইনের প্রতিস্থাপন ও প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা থেকে সরে আসা। এই তিন বিষয়ে ভিন্ন মত দিয়ে সভায় আন-অফিসিয়াল নোট দেন তিনি।   তিনি আরো বলেন, নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন পরিচালনা আইনের সংস্কারের যে প্রস্তাব করেছে, আমি তার সঙ্গেও একমত নই। কেবল নির্বাচন পরিচালনার জন্য ভিন্ন আইন হতে পারে না, তা সর্বজনীন হতে হবে।  

এ বিষয়ে ইসির সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর বলেন, আইন সংস্কার একটি সাব-কমিটি। মূল কমিটি কমিশন সভা। সেখানে সকলের মতামত নিয়ে আরপিও সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। আইন সংস্কার নিয়ে কোনো ভিন্নমত নেই।