দর্শকদের ম্যাচিউর করার দায়িত্ব নির্মাতাদের

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২০, ১৯:০৮

নির্মাতা আশফাক নিপুণ। সারাবছর তাকে না পাওয়া গেলেও বিশেষ দিনগুলোতে প্রতিবারই চমক নিয়ে হাজির হোন তিনি। এবার কোরবানি ঈদে প্রচার হয়েছে তার দুটি টেলিফিল্ম। যেগুলো প্রশংসা কুড়ানোর পাশাপাশি আলোচনাও তৈরি করেছে। সেই প্রসঙ্গে কথা বলেছেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। পাশাপাশি নাটক ও দর্শকদের চাহিদা প্রসঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন মোস্তাফিজ মিঠ ু

কোরবানি ঈদে ‘ভিকটিম’ ও ‘ইতি, মা’ টেলিফিল্ম দুটি বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে। নির্মাতা হিসেবে টেলিফিল্মগুলো নিয়ে আপনার অভিমত জানতে চাই—

আমি সবসময় এমন গল্প নিয়ে কাজ করতে চাই ও করি, যেগুলো আমাদের আশেপাশের ঘটনা। যেই কাজটি দর্শকরা নিজেকে রিলেট করতে পারবে। বলা যায়, অস্বস্তির গল্পে আমার আগ্রহ বেশি। এবারের গল্পগুলোও তেমন। দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞ, কারণ প্রচারের পর প্রতিক্রিয়া আমাকে সন্তুষ্ট করে। তবে এবারের প্রশংসা সবকিছুকে ছাপিয়ে গেছে। কোনো কাজের জন্য এমন সাড়া আমি পাইনি। এটি সত্যিই বিস্ময় আমার জন্য।

 

নাটক ও টেলিফিল্মের বাজেটের সমস্যা অনেকদিন ধরে। এরমধ্যে বড় পরিসরে কোনো কাজ চাইলেও নির্মাতাদের পক্ষে সম্ভব নয়। আপনার কাজের ক্ষেত্রে বাজেট সমস্যার অভিজ্ঞতা কেমন?

আমি আসলে সাড়া বছর কাজ করি না। এখন একটি নাটকের জন্য যেই বাজেট দেওয়া হয় সেই বাজেটে আমি কাজ করতে চাই না। বাজেটের স্বাধীনতা থাকলে আমি কাজ করি। কারণ আমার যেই ভাবনা সেটি আমি পর্দাতে তুলে আনার ক্ষেত্রে ছাড় দিতে চাই না। এবার যেই দুটি টেলিফিল্ম আমি লাইভ টেকনোলজি থেকে করেছি, তারা আমাকে বাজেটের পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছে। তাই কাজগুলো করেছি এবং ইউটিউবে দেখার আগে টেলিভিশনে দেখার পর আমাকে অনেকে ফোন দিয়েছেন। কাজের মানের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় নয়।

 

বাজেটের এই সমস্যার সমাধান কী মনে করেন?

আমাদের সংখ্যার চেয়ে মানের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। তাহলেই সম্ভব। এই দায়িত্বটা প্রযোজকদের। একটা জায়গা ঠিক হতে সময় লাগে। আমাদের প্রযোজকরা দ্রুত মুনাফা চায়। তাই বড় বাজেটের রিস্ক সে নিতে চায় না। এই রিস্কটা যদি তারা নেয় তাহলে আবারো জায়গাটা ঠিক হয়ে যাবে। ঈদে প্রায় ৫০০ নাটক প্রচার হয় বিভিন্ন চ্যানেলে। কম বাজেটে এত নাটক না বানিয়ে, এই ৫০০ নাটকের বাজেট দিয়ে যদি একশ নাটক নির্মাণ করা হয়, তখন কিন্তু মান ঠিক থাকবে। সেই চর্চা ও রিস্ক প্রযোজকদের নিতে হবে। তাহলে এক সময় ঠিক হয়ে যাবে।

 

এখনকার বেশিরভাগ নাটকের উদ্দেশ্য শুধুই বিনোদন কখনো তা স্থুল বিনোদন। নির্মাতা হিসেবে আপনি কীভাবে ভাবেন?

এই বিষয়টি একটা লাইব্রেরি দিয়ে আমি উদাহরণ দিই। একটি লাইব্রেরিতে অনেক বই থাকে। সেখানে অনেক ধরনের বই থাকে। পাঠক ঠিক করবে তিনি কোন বই পড়বেন। ফিকশনের ক্ষেত্রেও এমন। ব্যক্তিগতভাবে আমি এমনকিছু নির্মাণ করতে চাই যা মানুষকে বিনোদন দিবে এবং তাকে ভাবাবে। আমার কাজ নিয়ে যেনো চিন্তা করেন। আমরা অনেক সময় দর্শকদের দোষ দিই। যে দর্শক নিছক বিনোদনের নাটক বেশি পছন্দ করে। কিন্তু তাকে তো অপশন দিতে হবে। আর দর্শকদের ম্যাচিউর করার দায়িত্ব নির্মাতাদের। তবে আমি কোনোকিছুকে ছোট করছি না। কাজের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা সবার আছে।