নিয়মের মধ্যে আসিতেই হইবে

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২০, ২০:৫৭

বাংলাদেশের বেসরকারি হাসপাতালের বিশৃঙ্খলার চিত্র অত্যন্ত প্রকটভাবে উঠিয়া আসিয়াছে নোভেল করোনা ভাইরাসের মাধ্যমে। সম্প্রতি জানা গিয়াছে, দেশের ১৫ হাজারেরও অধিক বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশেরই কোনো বৈধ লাইসেন্স নাই। বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলিতে অনিয়মের যেই স্তূপ—তাহার ছোট্ট উদাহরণ রিজেন্ট হাসপাতাল। যথাযথভাবে অনুসন্ধান করিলে এমন শত শত হাসপাতালের অনিয়মের চিত্র মিলিবে। কোভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির পাশাপাশি স্বাস্থ্যব্যবস্থার বেহাল চিত্র মানুষের সামনে প্রকাশ পাইতে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তড়িঘড়ি করিয়া এক মাস সময় দিয়া বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে ২৩ আগস্টের মধ্যে লাইসেন্স নবায়নের জন্য আবেদন করিতে বলিয়াছে। জানা গিয়াছে, এই সময়ের মধ্যে নিবন্ধন নবায়নের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখায় ১২ হাজার ১২৭টি আবেদন জমা পড়িয়াছে। নবায়ন হইয়াছে ৪ হাজার ৫১৯টি লাইসেন্স। এই জন্য অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা ৭ হাজার ৬০৮। তবে অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ ঘটনা হইল, এখনো আবেদনই করে নাই—এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৩ হাজার!

আমরা দেখিয়াছি, প্রতিষ্ঠানমালিকদের ভোগান্তি কমাইতে দুই বত্সর পূর্বেই অনলাইনের মাধ্যমে লাইসেন্স নবায়নের সুযোগ দিয়াছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। যদিও এই পদ্ধতির নানা জটিলতার কথা জানাইয়াছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাহাদের অভিযোগ, দুই বত্সর পূর্বে অনলাইনে আবেদন করা অনেক প্রতিষ্ঠানই এখন পর্যন্ত লাইসেন্স নবায়ন করিতে পারে নাই। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলিতেছেন, তথ্য অসম্পূর্ণ থাকায় লাইসেন্স নবায়ন করা সম্ভব হইতেছে না। আরো অভিযোগ রহিয়াছে যে, হাসপাতাল লাইসেন্সের সময় কাগজপত্রে চিকিত্সক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী ঠিকই দেখায়; কিন্তু পরের বত্সর নবায়নের সময় এই সংখ্যক জনবল দেখাইতে পারে না। নবায়নের আবেদন করার পর পরিদর্শনে আসিলে আবেদনে দেওয়া তথ্যের সহিত কোনো মিল পাওয়া যায় না। এই সকল বিষয় সংশোধন করিয়া পুনরায় আবেদন করিতে বলিবার পর হইতেই ঐ সকল প্রতিষ্ঠানের আর কোনো সাড়া পাওয়া যায় না। অভিযোগটি নিঃসন্দেহে গুরুতর। বহু ক্ষেত্রেই এক কুমিরের ছানা সাত বার দেখাইবার মতো অনিয়ম প্রচুর ঘটে। তবে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভুক্তভোগী কিছু মালিক জানাইয়াছেন, লাইসেন্স নবায়নে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এমন কিছু নিয়মনীতি যুক্ত করিয়াছে, যাহা কঠিন ও বহুলাংশে অবাস্তব। তাহাদের অনেকের অভিযোগ রহিয়াছে, ঘুষ প্রদানের জন্যই এত নিয়মের বেড়াজাল। সকল নিয়ম মানিলেও লাইসেন্স পাওয়া সহজ হয় না। আবার নিয়ম না মানিয়া কেবল উেকাচের বিনিময়ে লাইসেন্স পাওয়া যায়। এই সকল অভিযোগও গুরুতর নিঃসন্দেহে।

আমরা দেখিতেছি, কিছু বেসরকারি হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরস্পর পরস্পরকে অভিযুক্ত করিতেছেন। ইহার পাশাপাশি আমরা দেখিয়াছি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জনবলসংকটও রহিয়াছে। সমগ্র দেশের ১৫ হাজারের অধিক হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক প্রতিষ্ঠান দেখাশোনার জন্য এই শাখায় কর্মকর্তা মাত্র ১১ জন। তবে বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে নিয়মের মধ্যে আনিতে সরকার নূতন নূতন শর্ত যুক্ত করিলেও তাহার জন্য কিছুটা বাড়তি সময় দরকার বটে। তাহার পরও যতই সময় লাগুক, বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে নিয়মের ভিতরে আসিতেই হইবে। আর যাহারা আবেদনই করে নাই, তাহাদের কোনো যোগ্যতাই নাই চিকিত্সা-সংক্রান্ত সেবা চালাইয়া যাইবার।