স্পোর্টস রিপোর্টার
বাতিল হওয়া মৌসুমের পুরো পারিশ্রমিকের সঙ্গে ফুটবলের নতুন মৌসুমের অর্ধেকেরও বেশি পারিশ্রমিক আগাম চেয়েছেন খেলোয়াড়রা। সেই সঙ্গে তারা বর্তমান ক্লাবেই খেলবেন বলে মঙ্গলবার লিগ কমিটির কাছে জানিয়েছেন। খেলোয়াড়দের এমন চাওয়ার সঙ্গে দ্বিমত ক্লাবগুলোর।
শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের কর্মকর্তা সালেহ জামান সেলিম বলছিলেন, আগের পারিশ্রমিকের সঙ্গে নতুন মৌসুমে ২০ শতাংশ পারিশ্রমিক দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল লিগ কমিটির সভায়। তিনি বলেন, ‘সর্বোচ্চ ২০ থেকে ৩০ শতাংশ অর্থ দেওয়া যেতে পারে। এখন যদি খেলোয়াড়রা এভাবে দাবি করে আগের মৌসুমের শতভাগ টাকা শোধ করে নতুন মৌমুমের ৫০-৬০ শতাংশ দিতে হবে। তাহলে এটা কেমন হলো। বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যবসা নেই। স্পন্সররা টাকা দেবে কোথা থেকে। চারটা, পাঁচটা ম্যাচ খেলে এখন পুরো টাকা দাবি করাটা কতটা যুক্তিসঙ্গত সেটাও খেলোয়াড়দের ভেবে দেখা উচিত।’ একটু কষ্ট নিয়েই বলছিলেন, এই বর্ষীয়ান সংগঠক। তিনি বলেন, ‘এমনিতেই করোনা ভাইরাস চলছে। এখন যদি বলা হয় ভ্যাকসিন আসুক তারপর ফুটবল। কিংবা যে কয়টা ম্যাচ খেলা হয়েছে সেই হিসাব করে ম্যাচপ্রতি টাকা নিয়ে বাকিটা ফেরত দিতে হবে। খুব বেশি ঝামেলা দেখলে আমরা দলবদল করব না।’
সাইফ স্পোর্টিংয়ে এমডি নাসির উদ্দিন চৌধুরীর কষ্টটা অন্যখানে। তিনি বললেন, ‘৫০ থেকে ৬০ শতাংশ যেটা চাওয়া হয়েছে, এটা কম হওয়া উচিত। ম্যাচ খেলেছে ২০ পারসেন্ট। আগের পেমেন্ট কী হবে জানি না। লিগ কমিটির সিদ্ধান্ত অন্য ক্লাবগুলো মেনে নিলে আমাদেরও মেনে নিতে হবে। আমরা পারিশ্রমিকের পাশাপাশি ম্যাচ ফি দিয়ে থাকি। আমি এসব নিয়ে ভাবছি না। আমরা কয়েকটা ক্লাব ছাড়া নিচের সারির ক্লাবগুলোর কী অবস্থা একবার ভেবে দেখুন। তারা কীভাবে টাকা জোগাড় করবে। প্রথম ধাপের পেমেন্ট দেওয়ার পরও আরো অনেক খরচ আছে। তখন গিয়ে নিচের সারির ক্লাবগুলো কুলিয়ে উঠতে পারে না। তখনই টানাটানির মধ্যে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সও খারাপ হয়। কারণ একটাই, ক্লাবগুলোর সুনির্দিষ্ট রোজগার নেই।’
খেলোয়াড়দের দাবি বাস্তবসম্মত কিনা, এমন প্রশ্নে কথা বলতে রাজি হননি আবাহনীর ফুটবল ম্যানেজার সত্যজিত্ দাস রূপু। তিনি বলেন, ‘এটা বাস্তবতার বিষয় না। এটা সম্মিলিত বিষয়। মিটিংয়ে বসলে বোঝা যাবে।’ মিটিংয়ের আগে কথা বলতে রাজি না রূপু। আগামী শনিবার ক্লাবের সঙ্গে মিটিং হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ভিন্ন কথা মোহামেডানের ফুটবল ম্যানেজার ইমতিয়াজ আহমেদ নকিবের। বাফুফের নির্বাচনের আগে লিগ নিয়ে লিগ কমিটির তত্পরতাকে লোকদেখানো মনে করছেন সাবেক তারকা স্ট্রাইকার নকিব। তিনি বললেন, ‘খেলা হোক আমরাও চাই। এই করোনাকালে খেলা হয় কীভাবে? এখনকি খেলার মতো পরিস্থিতি আছে? বাফুফের নির্বাচনের নতুন তারিখ দিলে তখনই আলোচনা হবে।’
