পরিত্যক্ত উড়োজাহাজের ভাগাড় শাহজালাল!

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২০, ২২:১৪

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে এবং কার্গো ভিলেজ অ্যাপ্রোনের বিশাল অংশ জুড়ে দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রাখা হয়েছে ২২টি পরিত্যক্ত উড়োজাহাজ। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অকেজো উড়োজাহাজে ঘিঞ্জি পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে রানওয়েতে। এতে করে দেশের এই প্রধান বিমানবন্দরটির সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কার্গোতে মালামাল পরিবহনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। রানওয়েতে তৈরি হয়েছে নিরাপদ বিমান চলাচলে শঙ্কা। পরিত্যক্ত এসব উড়োজাহাজের ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে বিমানবন্দরটি।

উড়োজাহাজগুলো সরাতে বারবার তাগাদা দিয়েও কোনো ফল মিলছে না। সরিয়ে নেওয়ার কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছেন না সংশ্লিষ্টরা। নষ্ট উড়োজাহাজগুলোর বকেয়া পার্কিং চার্জ প্রায় ৮০০ কোটি টাকাও আদায় করতে পারছে না বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। আইনগত জটিলতার কারণে নিলামেও বিক্রি করতে পারছে না বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। উড়োজাহাজগুলোর রেজিস্ট্রেশন কার্যকর রয়েছে এবং আদালতে মামলা রয়েছে।

বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ অ্যাপ্রোনে ২০১২ সালে পরিত্যক্ত দুটি এমডি-৮২ ও দুটি ড্যাশ-৮ উড়োজাহাজ ফেলে রাখা হয়। পরে ড্যাশ-৮ উড়োজাহাজ দুটি বিক্রি করে দিলেও এখনো সরিয়ে নেওয়া হয়নি।  বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুটি এফ-২৮ ও চারটি ডিসি-১০ উড়োজাহাজ কয়েক বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।  হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ এইচ এম তৌহিদ-উল আহসান বলেন, আমাদের সুপরিসর তৃতীয় টার্মিনালের জন্য বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ হচ্ছে। নষ্ট উড়োজাহাজগুলো পড়ে থাকার কারণে অনেক জায়গা নষ্ট হচ্ছে। পরিত্যক্ত উড়োজাহাজগুলো সরিয়ে নিলে সেখানে কমপক্ষে সাতটি উড়োজাহাজ পার্কিং করা যাবে। পাশাপাশি কার্গোগুলোতে মালামাল ওঠানো ও নামানো সহজ হবে।

বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান বলেন, রানওয়েতে পরিত্যক্ত কিছু উড়োজাহাজ স্বাভাবিক বিমান চলাচল কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। এছাড়া বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের ক্ষেত্রেও এগুলো প্রতিবন্ধকতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কারণে আমরা পরিত্যক্ত বিমান অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বেবিচক সূত্র জানায়, বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান উড়োজাহাজগুলো সরিয়ে নিতে সময় চেয়ে আবেদন করেছে।

রিজেন্ট এয়ারওয়েজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান আসিফ বলেন, শাহজালালে আমাদের একটি বোয়িং ও দুটি ড্যাশ নিয়ে মোট তিনটি উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণের অপেক্ষায় আছে। বোয়িংটির ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে তবে ড্যাশ উড়োজাহাজ দুটি খুব শিগিগর রক্ষণাবেক্ষণ করা যাবে না।