বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে নানা উদ্যোগ সরকারের

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২০, ২২:১৪

স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে দীর্ঘদিন ধরে অনেক কাজ ও উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রত্যাশিত ফল আসেনি। এবার আর কথা নয়, পুরোদমে কাজ শুরু করতে চাইছে সরকার। বিশেষ করে বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে বিশ্ববাণিজ্য ও বিনিয়োগে নতুন মেরুকরণের ফলে সৃষ্ট সুযোগ ধরতে চায় বাংলাদেশ। প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিদ্যমান সুবিধায় বৈষম্য দূর করা হবে। এতদিন স্থানীয় উদ্যোক্তা ও শর্তসাপেক্ষে যৌথ উদ্যোগে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সরকারের দেওয়া রপ্তানির নগদ সহায়তা সুবিধা পেলেও শতভাগ বিদেশি বিনিয়োগকারী তা পেতেন না। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এ বৈষম্য দূর করা হচ্ছে। আগামী অক্টোবরের মধ্যে শতভাগ বিদেশি বিনিয়োগকারীকেও রপ্তানির ক্ষেত্রে নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। অর্থনৈতিক অঞ্চলের কৃষি প্রক্রিয়াকরণ খাতের বিনিয়োগকারীদের রপ্তানির ক্ষেত্রেও এ ধরনের প্রণোদনা কার্যকরের সিদ্ধান্ত হয়েছে। শতভাগ বিদেশি বিনিয়োগকারী দীর্ঘদিন ধরেই            এ দাবি জানিয়ে আসছিলেন। অন্যদিকে অর্থনৈতিক অঞ্চলে জমি ইজারা নেওয়ার ওপর ভ্যাট আরোপ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের অসন্তোষের বিষয়টিও সরকার গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়েছে। এই ইস্যু দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া স্ট্যাম্প ডিউটিসহ আরো বেশ কিছু বিষয়ে সরকার ইতিমধ্যে ছাড় দিয়েছে।

দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি মূল্যায়নের লক্ষ্যে সম্প্রতি বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) আলাদা সভায় স্থানীয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়। সংস্থা দুটির চেয়ারম্যান হিসেবে ঐ সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৈঠক সূত্র জানায়, প্রসঙ্গক্রমে শতভাগ বিদেশি বিনিয়োগকারীর (এ ক্যাটাগরি) পণ্য বা সেবা রপ্তানিতে স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের মতো সরকারি নগদ সহায়তা সুবিধা না পাওয়ার ইস্যুটি ওঠে। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, আগামী অর্থবছরের বাজেটে বিদেশি বিনিয়োগকারীদেরও একই সুবিধার আওতায় আনা হবে। তখন প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী মাস থেকে কেন নয়? এরপর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এ ক্যাটাগরির বিনিয়োগকারীদেরও স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের মতো সরকারি সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সম্প্রতি ঢাকা চেম্বারের এক অনলাইন সেমিনারেও এ প্রসঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি বিনিয়োগ ও শিল্প উন্নয়নবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।

সভায় উপস্থিত একজন ব্যবসায়ী নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইত্তেফাককে বলেন, ‘বিনিয়োগ আনতে সার্বিকভাবে কোথায় কোথায় কাজ করতে হবে, সে বিষয়ে এখন কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আমরা কী সুবিধা দিচ্ছি, প্রতিযোগী দেশগুলো কী সুবিধা দিচ্ছে, বিনিয়োগ আনতে আমরা আর কী কী সুবিধা দিতে পারি তা দেখার জন্য কয়েক জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বিশেষভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

যোগাযোগ করা হলে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম ইত্তেফাককে বলেন, ‘স্থানীয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে বিদ্যমান বিনিয়োগ পরিবেশ মূল্যায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এটি দ্রুত নিশ্চিত করা গেলে বিনিয়োগের পরিবেশ আরো উন্নত হবে বলে আমরা মনে করছি।’