উচ্চারিত পুত্র শস্য আবহমান দুটো ছেঁড়া বাঁশের কাঠি
জোড়া দিতে গিয়ে কতই-না কসরত করে যাচ্ছে!
এই কলা দূর থেকে দেখছি, আর মনে মনে লোহালক্কড়
হাতুড়ি-বাটালি, সুচ-তুরপুনের অদ্ভুত-প্রয়াস শব্দ শুনতে পাচ্ছি
অথচ শব্দগুলোয় আমুণ্ড বনেদিপনা আর আভিজাত্যের ধ্বনি-প্রতিধ্বনি!
যারা কার্যত আমার হূদয়ের গভীর থেকে গভীরে বসে
অসহ্য বিপন্ন ক্রোধে আমাকে ছিটকে ফেলেছে নির্জনতম দ্বীপে
একটু একটু করে বাড়ছে রাত; টের পাচ্ছি
হাওয়া-বাতাসহীন প্রগাঢ় নির্জনতা
অভিন্ন বাড়িতে বসবাস করেও অনায়াস অনুভব করা যায়!
প্রিয়তম স্ত্রীর প্রতি হাত বাড়াতে গিয়ে গুটিয়ে নিই হাত
স্নেহার্দ্র সন্তানযুগল জড়িয়ে ধরতে গিয়ে কেঁপে ওঠে বুক
এঘর থেকে ওঘর ছোটাছুটির কথা ভাবতে ভাবতে প্রায়ান্ধ একটি রাত
অনুভব-অনুভূতিহীন একটুকরো দুষ্প্রাপ্য নিশ্বাসের আসা-যাওয়া ঘিরে
ব্যক্তিগত ভরসায় পড়ে থাকি
ভোর হতে-না-হতেই আমার জন্য তৈরি হতে থাকে সুস্বাদু ঝোলের ব্যঞ্জন
নওয়াবি-বাদশাহি শত শত লোভনীয় অন্নের কদর, যথা প্রকার—
আমার স্ত্রীর মুখে অন্তত শতবর্ষের কাঙ্ক্ষিত দাম্পত্যের মধ্যবর্তী হাসি
সন্তানের চোখে নতুন কোনো অদেখা অদিতির সৃজনসম্ভার
অথচ তারা কোনো কিছু বুঝে উঠবার আগেই
এতটা পূর্বাহ্নে আজ ঘামতে ঘামতে নির্জন দ্বীপটি ভাসিয়ে দিলাম
অভাবিত সামুদ্রিক উচ্ছ্বাস আর ত্রিকূল ছাপানো উর্মি-মুখরতায়!
একই ঘরে থেকে এতোটা হঠাত্ করেই কতো কতো সহস্র ক্রোশের
দূরত্ব রচিত হলো— পরস্পর প্রিয় পরিজনে!
তারা আমাকে আদরে আদরে এতোটাই ভরিয়ে তুলল যে
বত্সরে অন্তত একবার হলেও ছুটে আসে সমুদ্র চাহিদায়—
