করোনার প্রভাব

বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমেছে

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২০, ২১:২২

মহামারি করোনার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির। যেখানে আগের ব্যবসাই চলছে না সেখানে নতুন করে বিনিয়োগের আশা করা যায় না। বাধ্য হয়ে অনেকে ব্যবসা সংকুচিত করেছে। আর করোনার কারণে প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন করার প্রস্তুতি হিসেবে অন্যান্য ঋণ বিতরণও কমিয়ে দেয় বেশির ভাগ ব্যাংক। ফলে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ কমে গিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাই শেষে বেসরকারি খাতে ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৯৫ হাজার ২০১ কোটি টাকা। এই অঙ্ক গত বছরের জুলাইয়ের চেয়ে ৯ দশমিক ২০ শতাংশ বেশি।

জুনের তুলনায় জুলাই মাসে প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ঋণ বিতরণ বেশি হয়েছে। সে হিসেবে জুলাইয়ে ঋণ বাড়ার কথা। তবে পরিসংখ্যানে উলটো চিত্র দেখা গেছে। গত জুন মাসে ঋণস্থিতি ছিল ১০ লাখ ৯৭ হাজার ২৭১ কোটি টাকা। জুলাইতে তা নেমে এসেছে ১০ লাখ ৯৫ হাজার ২০১ কোটি টাকায়। সে হিসাবে এক মাসের ব্যবধানে ঋণ কমেছে ২ হাজার ৯৯ কোটি টাকা বা দশমিক ১৯ শতাংশ কম।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাহমারিতে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের গতি কমে গেছে। রপ্তানি অনেক কমেছে। স্থানীয় পণ্যের চাহিদাও আর আগের মতো নেই। ফলে নতুন উদ্যোক্তারা মাঠে নামছে না। পরিস্থিতি কী হয় সেটা দেখেই তারা মাঠে নামতে চান। আর দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসার সঙ্গে জড়িত উদ্যোক্তারাও কোনো রকমে ব্যবসা টিকিয়ে রেখেছেন। এসব কারণে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহ কমেছে। যা অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়বে। কারণ ঋণ প্রবাহ কমে যাওয়ার মানে কর্মসংস্থান কমে যাচ্ছে। এই অবস্থা প্রবৃদ্ধি, উত্পাদন ও সেবা খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি আগের বছরের মতো অপরিবর্তিত রেখে ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির পরে অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে হলে বেসরকারি খাতে ঋণ বাড়াতে হবে। বেসরকারি ঋণ বাড়ানোর মাধ্যমে মুদ্রানীতির লক্ষ্য অর্জন করার জন্য রপ্তানি বাণিজ্য, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও উত্পাদনমুখী শিল্পকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। অন্যদিকে সরকারের ব্যাংক ঋণনির্ভরতা কমাতে রাজস্ব বাড়ানো ও বিদেশি উত্স থেকে কম সুদে ঋণ নেওয়ার ব্যবস্থা করা গেলে খারাপ অবস্থার সম্মুখীন হওয়া থেকে বাঁচা যাবে।