শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় জাতীয় কবিকে স্মরণ

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২০, ২১:৪৭

ফুলে ফুলে ছেয়ে গিয়েছিল কবির সমাধি। গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন ও স্মরণের মধ্য দিয়ে পালিত হলো জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী। পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারি গেজেটের মাধ্যমে জাতীয় কবিকে স্বীকৃতি প্রদানের দাবি জানানো হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় কবির ৪৪তম প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় নানা কর্মসূচি পালিত হয়। বিভিন্ন সংগঠন কবির সমাধিতে পুষ্প অর্পণ এবং দোয়া মোনাজাতের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। স্মরণ কর্মসূচিতে সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে জাতীয় কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে তাকে নিয়ে আলোচনা করেন বিশিষ্ট জনেরা।

কবির নাতনি খিলখিল কাজী টেলিফোনে বলেন, সরকারিভাবে এটা (গেজেট) এখনো করা হয়নি। তিনি জাতীয় কবি, সরকারিভাবে গেজেট করা উচিত বলে আমিও মনে করি। সুদূর ভবিষ্যতে হয়তো এমন একটা সময় আসবে, যখন কেউ জানতে পারবে না যে কাজী নজরুল ইসলাম এ দেশের জাতীয় কবি ছিলেন।

এদিকে, সকাল সাড়ে ৯টায় কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক। তার অসাম্প্রদায়িক চেতনায় এই দেশ থেকে সাম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষের মূল উত্পাটন করব।

সকালে কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে নজরুল সংগীত শিল্পী ফেরদৌস আরা বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম জাতীয় কবি, তা আমাদের মননে আছে। কিন্তু কোনো সরকারি গেজেটে নেই। সকাল ৭টায় কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে। এ সময় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব বদরুল আরেফীন উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এদিন নজরুলের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জাতীয় জীবনের প্রতিটি ঘটনার সঙ্গে জড়িত। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিকাশে প্রেরণার এক অসাধারণ উত্স হিসেবে রয়েছেন কাজী নজরুল ইসলাম।

অনুষ্ঠান : জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বাংলা একাডেমি বৃহস্পতিবার সকালে আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে একক বক্তৃতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী। তিনি বলেন, নজরুল সমাজ থেকে বৈষম্য দূর করে সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চেয়েছিলেন। একক বক্তা এ এফ এম হায়াতুল্লাহ বলেন, খণ্ডিত পাঠে পূর্ণাঙ্গ নজরুলকে আবিষ্কার করা ও ধারণ করা সম্ভব নয়। এজন্য গভীর অনুসন্ধান এবং অভিনিবেশ প্রয়োজন। সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান বলেন, নজরুলের বৈরী-পক্ষ তার সমকালেও সক্রিয় ছিল কিন্তু তিনি শৈল্পিকভাবে সেসব প্রতিকূল পরিবেশ-প্রতিবেশ মোকাবিলা করেছেন। অনুষ্ঠানে আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী মাহিদুল ইসলাম এবং নজরুলগীতি পরিবেশন করেন শিল্পী লীনা তাপসী খান।