ধর্ষণ শেষে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়েরের ৪৯ দিন পর নারায়ণগঞ্জে স্কুলছাত্রী ফিরে আসার ঘটনায় দুই তদন্তকারী কর্মকর্তাকে তলব করেছে হাইকোর্ট। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর তাদেরকে আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে তলব করা হয়েছে মামলার নথিও। এ সংক্রান্ত রিভিশন মামলার শুনানি শেষে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। তিনি বলেন, শুধু নারায়ণগঞ্জ নয়, এ ঘটনায় পুরো ফৌজদারি বিচারব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদায়ের পদ্ধতিতে ত্রুটি রয়েছে কি না—সেটাও খতিয়ে দেখা উচিত হাইকোর্টের। এদিকে নারায়ণগঞ্জ থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, নারায়ণগঞ্জে আলোচিত স্কুলছাত্রীকে ‘ধর্ষণ ও হত্যা’ মামলার ঘটনায় সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান ও মামলার নবনিযুক্ত তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক আবদুল হাইকে আদালতে তলব করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩য় আদালতের বিচারক কাওছার আলম এ আদেশ দেন। আদেশের ব্যাখ্যায় আদালত সূত্র জানায়, ঐ কিশোরী জীবিত; কিন্তু তিন আসামি কেন তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে—এর ব্যাখ্যা চেয়েছে আদালত। আগামী দুই কার্যদিবসের মধ্যে মামলার এজাহার ও জবানবন্দির নথিপত্রসহ তাদের সশরীরে উপস্থিত হয়ে এর ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত। আদালত সূত্র আরো জানায়, আগামী সোমবার এ মামলায় গ্রেফতার চার আসামির একত্রে জামিন ও রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বলেও আদেশ দেন আদালতের বিচারক।
উল্লেখ্য, নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার এক স্কুলছাত্রী গত ৪ জুলাই নিখোঁজ হয়। এক মাস পর ৬ আগস্ট ছাত্রীর বাবা নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় অপহরণ মামলা করেন। এই মামলায় ৭ আগস্ট পুলিশ গ্রেফতার করে ঐ ছাত্রীর কথিত প্রেমিক আবদুল্লাহ, নৌকার মাঝি খলিল ও অটোচালক রকিবকে। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর মডেল থানার এসআই শামীম আল মামুন তিন জনকে রিমান্ডে নেয়। এক পর্যায়ে ঐ ছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে তাদের আদালতে জবানবন্দি দিতে বাধ্য করে; কিন্তু ২৩ আগস্ট সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে ঐ ছাত্রী জীবিত ফিরে আসে। এতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
