১৯৮১ সালে এইচআইভি ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর বিশ্বের কয়েক কোটি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ভাইরাসটি প্রধানত মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে পুরোপুরি নষ্ট করে দেয়। এখন পর্যন্ত এইচআইভি ভাইরাসের ওষুধ আবিষ্কার হয়নি। তবে আশার কথা—১৯৯২ সালে এইচআইভি পজিটিভ শনাক্ত হওয়া এক নারী চিকিত্সা ছাড়াই সুস্থ হয়েছেন। ন্যাচার সাময়িকীতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়েছে।
গবেষকরা জানান, ঐ নারী ছাড়াও আরো অন্তত ৬৩ ব্যক্তি ওষুধ ছাড়াই এইচআইভি ভাইরাসকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছেন। এসব ব্যক্তির শরীরে প্রবেশ করা এইচআইভি ভাইরাস এমনভাবে নিয়ন্ত্রণে ছিল যাতে বংশবিস্তার করতে পারেনি। মূলত ঐসব ব্যক্তির শরীরের জিনগত বৈশিষ্ট্যের কারণেই ভাইরাস কোনো প্রভাব তৈরি করতে পারেনি।গবেষকরা বলছেন, অন্য কিছু গবেষণায় দেখা গেছে আক্রান্ত রোগীরা বহু বছর ধরে অ্যান্টেরেট্রোভাইরাল থেরাপি নেওয়ায় এদের কারো কারো শরীরে থাকা এইচআইভি ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। তবে লরেন উইলেনবার্গ নামের যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ঐ নারীর ক্ষেত্রে বিষয়টি ছিল একেবারেই আলাদা। কোনো রকম ওষুধ ছাড়া এইচআইভি ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ করার কারণে গবেষকরা তার শরীরকে বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন বলে মনে করছেন।
তিনি ছাড়া অন্য আরো দুই ব্যক্তির ক্ষেত্রেও চমকপ্রদ ঘটনা ঘটেছে। এরা দুই জন অবশ্য পুরুষ। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা টিমোথি ব্রাউন এবং লন্ডনের অ্যাডাম ক্যাস্টিলেজো নামের দুই ব্যক্তি ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছিলেন। এরপর তাদের বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট করতে হয়েছে। সাধারণত লিউকোমিয়া, লিম্ফোমা, মায়োলোমার মতো ব্লাড ক্যানসার কিংবা থ্যালাসেমিয়া, অ্যাপ্লাসটিক অ্যানিমিয়া ও কয়েকটি বিরল রক্তের অসুখের চিকিত্সায় বোন ম্যারো প্রতিস্থাপন করা হয়। মজার বিষয়, ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পর বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্টের পর এইচআইভি থেকেও সুস্থ হয়ে ওঠেন তারা।
এইচআইভি আক্রান্তদের বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। যদিও এই ধরনের কিছু রোগীর সুস্থ হয়ে ওঠার হার বাড়তে থাকায় অনেকেই আশা দেখছেন। এ বছরের মে মাসে ব্রাজিলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এইচআইভির সমন্বিত চিকিত্সার মাধ্যমে অন্যান্য কিছু রোগও নির্মূল করা সম্ভব। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর জন্য আরো অনেক পরীক্ষা এবং গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের পিটার ডোহার্টি ইনস্টিটিউট ফর ইনফেকশন অ্যান্ড ইমুউনিটির পরিচালক ড. শ্যারোন লুইন বলেন, এটা চমকপ্রদ এক তথ্য। খুবই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার। তবে বর্তমান বিশ্বে এইচআইভি পজিটিভ লাখ লাখ মানুষের ক্ষেত্রে এই আবিষ্কারকে কীভাবে কাজে লাগানো যায় সেটাই এখন সবচেয়ে বড়ো চ্যালেঞ্জ।
গবেষকরা বলছেন, বছরের পর বছর অ্যান্টেরেট্রোভাইরাল থেরাপি গ্রহণের মাধ্যমেও একই ধরনের ভালো ফলাফল মিলতে পারে। এমনকি যারা নিয়মিত চিকিত্সা গ্রহণ করেন তাদের মতোই প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে উঠতে পারে এদের শরীরে। তবে এই সংখ্যা খুবই নগণ্য; শতকরা ১ শতাংশের মতো মানুষ অ্যান্টেরেট্রোভাইরাল ছাড়াই এইচআইভি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছেন। এটা অনেকটাই নির্ভর করে আক্রান্ত ব্যক্তির শারীরিক এবং জিনগত বৈশিষ্ট্যের ওপর। —দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস
