মির্জাপুরে বন্যায় বংশাই ও লৌহজং নদীর ভাঙ্গনের কবলে বেড়িবাঁধ, ব্রিজ-কালভাট, রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাট বাজারসহ ফসলি জমি। নদী ভাঙ্গনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বংশাই ও লৌহজং নদীর তীরবর্তী এলাকার লোকজন। বন্যায় ব্রিজ-কালভার্ট ও রাস্তার ক্ষতি হওয়ায় যোগাযোগের ক্ষেত্রে এলাকাবাসীকে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ শনিবার উপজেলার বেশ কয়েকটি এলাকায় খোঁজ নিয়ে নদী ভাঙ্গনের চিত্র দেখা গেছে।
উপজেলা প্রকৌশল অফিস ও উপজেলা প্রকল্পবাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, মির্জাপুর পৌরসভা ও ১৪ ইউনিয়নের মধ্যে এবারের বন্যায় ১১ ইউনিয়নের ঘরবাড়ি, ব্রিজ-কালভার্ট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাট বাজার, ফসলি জমি ও রাস্তা-ঘাটের ক্ষতি হয়েছে সবচেয়ে বেশি। ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়নগুলো হচ্ছে- জামুর্কি, মহেড়া, ফতেপুর, বানাইল, আনাইতারা, ওয়ার্শি, ভাদগ্রাম, ভাওড়া, বহুরিয়া ও লতিফপুর ইউনিয়ন এবং মির্জাপুর পৌরসভা।
বন্যার কারণে বংশাই নদীর মির্জাপুর-পাথরঘাটা মির্জাপুর শহর রক্ষা বাঁধ, ফতেপুর বাজার, ফতেপুর ইচ্চ বিদ্যালয়, সুতানরী, থলপাড়া, চাকলেশ্বর, গোড়াইল, গাড়াইল, যুকিকোপা, রশিদ দেওহাটা, ত্রিমোহন বীর মুক্তিযোদ্ধা একাব্বর হোসেন ব্রিজ এলাকা, হিলড়া আদাবাড়ি বাজার এবং লৌহজং নদীর মাঝালিয়া, গুনটিয়া, চুকুরিয়া, বরাটি, বহুরিয়া, কামারপাড়া ও নাগরপাড়া এলাকায় নদী ভাঙ্গনে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রউফ বলেন, এবারের বন্যায় নদী ভাঙ্গনে তার ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশী ক্ষতি হয়েছে। প্রতি দিনই ঘরবাড়ি, হাট বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও রাস্তা-ঘাট ও ফসলি জমি বিলীন হচ্ছে। একই অভিযোগ করেছেন লতিফপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন, জামুর্কি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলী এজাজ খান চৌধুরী রুবেল, ভাতগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আজাহারুল ইসলাম, বহুরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আব্দুস সামাদ এবং ওয়ার্শি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মাহবুব আলম মল্লিক হুরমহল। প্রয়োজনীয় বরাদ্ধ প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট তারা জোর দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল মালেক মোস্তাকিম বলেন, বন্যায় বংশাই ও লৌহজং নদীর ভাঙ্গনে যেসব এলাকার ক্ষতি হয়েছে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা তৈরী করে জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ চেয়ে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ এলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা প্রদানসহ এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাট বাজার, ব্রিজ-কালভার্ট ও রাস্তার দ্রুত কাজ করা হবে।
ইত্তেফাক/আরকেজি

