সংক্রমণ পরিস্থিতি বিবেচনা করে ঢাবি খোলার পরামর্শ ছাত্র সংগঠনগুলোর

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২০, ১৯:৪২

সারাদেশের করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম চালু করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলো। আজ শনিবার ( ২৯ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ সংসদের এক বৈঠকে ১৩টি সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের প্রতিনিধিরা এ পরামর্শ দেয়। করোনা ভাইরাসজনিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় হলসমূহের আবাসন ও শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে এ সভার আয়োজন করা হয়। 

অফিসিয়ালি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য অনুযায়ী ক্রিয়াশীল ১৩টি ছাত্র সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত পরিবেশ পরিষদের সাথে এ সভা আয়োজিত হয়। 

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, প্রোক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী, বিভিন্ন হলের প্রভোস্ট ও ১৩টি ছাত্র সংগঠনের ৭০ জন প্রতিনিধি সংযুক্ত ছিলেন।

সভায় উপস্থিত একটি সূত্র জানায়, ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা করোনা ভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস খোলার সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরামর্শ দেন। ক্যাম্পাস খোলার পর শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে আবাসিক হল খোলা ও শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার প্রতি জোর দেন। এ বিষয়ে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসে ও হলে শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবন পরিচালনার বিষয়ে একটি গাইডলাইন প্রণয়নের জন্য তাগিদ দেয়া হয়।  

আবাসনের বিষয়ে ছাত্রত্ব নেই এমন অছাত্রদের হল ত্যাগ করার বিষয়ে ১৩টি সংগঠনের নেতারা একমত হয়েছে বলে জানায় দায়িত্বশীল সূত্রটি। তিনি বলেন, পরিবেশ পরিষদের সভায় হলসমূহের সার্বিক পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে যাদের ছাত্রত্ব নেই তাদের হলে না থাকা এবং তথাকথিত গণরুম সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসার ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের নেয়া উদ্যোগকে ছাত্র-সংগঠনের নেতৃবৃন্দ স্বাগত জানান এবং এ ব্যাপারে তারা হল প্রশাসনকে সার্বিক সহযোগিতা করার আশ্বাস প্রদান করেন। 

আবাসন সমস্যার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রাব্বানী বলেন, যেসব শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব শেষ হয়েছে তারা কোনভাবেই হলে অবস্থান করতে পারবে না। গণরুম সংস্কৃতিই ক্যাম্পাসে আর থাকবে না। গণরুমে অবস্থান করা শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈধ ছাত্র। হলের যেসব সিটে অছাত্ররা থাকে সেসব সিটে গণরুমের শিক্ষার্থীদের থাকার ব্যবস্থা করে দেয়া হবে। 

তারা অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমের সাথে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত রাখার উদ্যোগকে স্বাগত জানান, তবে তারা সকল শিক্ষার্থীর অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমতার ভিত্তিতে অংশগ্রহণের জন্য চাহিদা মোতাবেক প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রযুক্তি অবকাঠামো উন্নয়ন, ডাটা প্যাকেজ ও ডিভাইস প্রদানের জন্য অনুরোধ করেন। একইসঙ্গে মূল্যায়ন যোগ্য পরীক্ষা কার্যক্রম অনলাইন কার্যক্রমের আওতায় না আনার জন্যও তারা কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানান।

মূল ২টি এজেন্ডার বাইরেও ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি দাবি জানানো হয়। নিজেদের দাবি সম্পর্কে  ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর সদ্য সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সাদ্দাম হোসেন বলেন, যেসব অসচ্ছল শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাসের আওতায় আসতে পারেনি তাদের ডিভাইসের জন্য বা মোবাইল ডাটার খরচের জন্য তাদের তালিকা করে ইউজিসি বা  বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মাধ্যমে আর্থিক অনুদান প্রদান করা, অনলাইন ক্লাসের আওতায় না থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য রিকভারি প্ল্যানের আওতায় সাপ্লিমেন্টারি ক্লাসের ব্যবস্থা রাখা, এ বছরের উন্নয়ন ফি সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছি আমরা।

ইত্তেফাক/এসআই