মোজাহেদুল ইসলাম
পূর্বঘোষণা অনুযায়ী কথা রেখেছেন ইলন মাস্ক। গত শুক্রবার ‘মুনশট’ নামের কর্মক্ষম ‘ব্রেইন ইমপ্ল্যান্ট’ প্রযুক্তিটি প্রদর্শন করেছেন তিনি। তবে এটি মানুষের মস্তিষ্কের পরিবর্তে গারট্রুড নামের একটি শুকরের মাথায় বসানো হয়েছে ওই চিপটি।
নতুন এই প্রযুক্তি সম্পর্কে অনলাইনের মাধ্যমে সবার উদ্দেশ্যে উন্মুক্ত করেন তিনি। সিএনএন প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে, লাইভস্ট্রিমিংয়ে তিনি তিনটি শুকরের সঙ্গে দর্শকদের পরিচয় করিয়ে দেন।
লাইভ স্ট্রিমিয়ে দেখা যায়, একটি শুকর তার নিজ থাকার স্থানে ঘুরে বেড়াচ্ছে, খাবার খেতে এবং মাটিতে গন্ধ শুকতে দেখা গেছে দেখা গেছে গারট্রুডকে। কিন্তু একই সময়ে প্রতিটি কর্মকাণ্ড সশব্দে রেকর্ড হচ্ছিল এবং মস্তিষ্কের কার্যক্রমের হিসেব ‘রিয়েল টাইম’-এ দেখা যাচ্ছিল। দুই মাস আগে গারট্রুডের মস্তিষ্কে ইমপ্ল্যান্ট চিপ সেট করে দেওয়া হয়েছে। শুকরটি নাকের নিউরনের সঙ্গে সংযোগ রয়েছে চিপটির, জানিয়েছেন এলন মাস্ক। শুকরটি যখন নাক দিয়ে কোনো কিছু ষ্পর্শ করে তখন তা এক হাজারেরও বেশি ইলেকট্রোডের মাধ্যমে শনাক্ত হয়ে নিউরাল স্পাইকের মাধ্যমে সবাইকে জানিয়ে দিচ্ছে মস্তিষ্কের প্রতিক্রিয়া।
এলন মাস্ক জানিয়েছেন, শুকরের সঙ্গে মানুষের মিল রয়েছে। আমাদের যদি মানুষের জন্য কোনো কিছু খুঁজে বের করতে হয়, তাহলে শুকর হতে পারে আপনার পরীক্ষা চালানোর উপযুক্ত মাধ্যম।
মাস্ক নিজ পরিকল্পনা সবাইকে জানানোর এক বছর পর প্রযুক্তিটি সবাইকে দেখালেন। গত জুলাইয়ে এক আঁঁকা সংস্করণে মাস্ক দেখিয়েছিলেন, একটি কম্পিউটার চিপে খুব সরু কিছু ইলেকট্রোড রয়েছে যা ব্যক্তির মস্তিষ্কে সার্জিক্যাল রোবটের মাধ্যমে সংযুক্ত করা যাবে। ইমপ্ল্যান্টটি কানের পেছনে থাকা তারবিহীন রিসিভারের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে, যা কম্পিউটারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে।
এ ধরনের ‘ব্রেইন-মেশিন ইন্টারফেইস’ ধারণা নতুন কিছু নয়। কয়েক দশক ধরে বিজ্ঞানীরা এ নিয়ে কাজ করছেন।
‘ইউএস ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ও এ ধরনের কিছু ‘গভীর-মস্তিষ্ক’ স্টিমুলেশন ডিভাইসে অনুমোদন দিয়েছে। অনেক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও এ ধরনের ডিভাইস তৈরিতে কাজ করছে।
মার্কিন সোশ্যাল জায়ান্ট ফেসবুক এমন একটি ডিভাইস তৈরি করতে চাচ্ছে, যার মাধ্যমে শুধু চিন্তা করেই টেক্সট পাঠানো সম্ভব হবে।
মাস্ক জানান, তারা এফডিএ ‘ব্রেকথ্রু ডিভাইস’ উপাধি অর্জন করেছেন জুলাইয়ে, এবং সামনে প্রথম মানব ইমপ্ল্যান্টের জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।
সূত্র: সিএনএন
