শামীমা আক্তার তন্দ্রা
বাঙালির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ মানুষটিকে সপরিবারে হত্যার পর দীর্ঘ দিন বাংলাদেশের রাজনৈতিক আকাশ ছিল তিমিরাচ্ছন্ন। বঙ্গবন্ধুকে দৈহিকভাবে হত্যা করা হলেও তার মৃত্যু নেই, তিনি চিরঞ্জীব। বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা এবং স্থপতি তিনিই। যতদিন এ রাষ্ট্র থাকবে, ততদিন অমর তিনি। সমগ্র জাতিকে তিনি বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রেরণায় প্রস্তুত করেছিলেন ঔপনিবেশিক শাসক-শোষক পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামে। বঙ্গবন্ধু কেবল একজন ব্যক্তি নন, এক মহান আদর্শের নাম। যে আদর্শে উজ্জীবিত হয়েছিল গোটা দেশ। বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র আর ধর্মনিরপেক্ষ দর্শনে দেশের সংবিধান প্রণয়ন করেছিলেন স্বাধীনতার স্থপতি। শোষক আর শোষিতে বিভক্ত সেদিনের বাস্তবতায় বঙ্গবন্ধু ছিলেন শোষিতের পক্ষে।
বঙ্গবন্ধুকে হত্যার সঙ্গে সঙ্গে সেদিন ঐ কুলাঙ্গারেরা বাংলাদেশের সকল স্বপ্নকে হত্যা করেছিল। বঙ্গবন্ধু না থাকলে হয়তো আজও আমরা বাংলাদেশ কী তা জানতাম না। হয়তো পূর্ব পাকিস্তান নাম নিয়েই আমাদের বেঁচে থাকতে হতো। বঙ্গবন্ধু যদি সেদিন মারা না যেতেন তাহলে আমাদের দেশ হয়তো আজ অনেক দূর এগিয়ে যেত। বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা তার বাবার স্বপ্ন পূরণ করার জন্য অনেক কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে শিক্ষার আলো পৌঁছিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছেন। বাংলাদেশকে তিনি ডিজিটাল বাংলাদেশে পরিণত করেছেন। এইতো কয়েক বছর আগেও বাংলাদেশের মানুষ মোবাইল ফোনের নাম শুনলেই চমকে উঠত। কিন্তু আজ কাজের মহিলা, রিকশাওয়ালা সবার হাতেই আমরা মোবাইল ফোনের ব্যবহার দেখতে পাই। বঙ্গবন্ধু ঠিক এরকম একটিই বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন। যেখানে কোনো অভাব থাকবে না, কোনো হাহাকার থাকবে না। যদিও তার সুযোগ্য কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা বাবার স্বপ্ন পূরণে সদা তত্পর আছেন। বঙ্গবন্ধু যদি আজ আমাদের মাঝে থাকতেন তাহলে আমাদের দেশ এশিয়া মহাদেশের সবচেয়ে উন্নত দেশ হতে পারত, অসম্ভব কিছুই ছিল না। কারণ বঙ্গবন্ধু ছিলেন একজন আদর্শ নেতা। আর যে দেশে তার মতোন আদর্শ নেতা থাকতেন সে দেশে একনিষ্ঠ কর্মীরও অভাব হতো না। তিনি এমন একজন নেতা ছিলেন যিনি কি না দ্বিধাদ্বন্দ্ব্ব ভুলে গিয়ে কাঁধে কাঁধ লাগিয়ে কাজ করতে পছন্দ করতেন। তাকে শুধু বাংলাদেশের নেতা বললে ভুল হবে। কারণ তিনি ছিলেন সব দেশের সব নেতার উত্তম আদর্শ। বঙ্গবন্ধুকে সবসময়ের জন্য বলা উচিত বিশ্বনেতা। আজ বঙ্গবন্ধু যদি আমাদের মধ্যে থাকতেন তাহলে হয়তো এই দেশ অনেক আগেই উন্নতির উচ্চ শিখরে পৌঁছাত। ১৫ আগস্ট জাতীয় শোকের দিন। বাংলার আকাশ-বাতাস আর প্রকৃতিও অশ্রুসিক্ত হওয়ার দিন। কেননা ১৯৭৫ সালের এই দিনে আগস্ট আর শ্রাবণ মিলেমিশে একাকার হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর রক্ত আর আকাশের মর্মছেঁড়া অশ্রুর প্লাবণে। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট সুবহে সাদিকের সময় যখন ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে নিজ বাসভবনে সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে বুলেটের বৃষ্টিতে ঘাতকরা ঝাঁঝরা করে দিয়েছিল, তখন যে বৃষ্টি ঝরছিল, তা যেন ছিল প্রকৃতিরই অশ্রুপাত। ভেজা বাতাস কেঁদেছে সমগ্র বাংলায়। ঘাতকদের উদ্যত অস্ত্রের সামনে ভীতসন্ত্রস্ত বাংলাদেশ বিহ্বল হয়ে পড়েছিল শোকে আর অভাবিত ঘটনার আকস্মিকতায়। কাল থেকে কালান্তরে জ্বলবে এ শোকের আগুন। দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে এ দিবসের উত্পত্তি। প্রতি বছর ১৫ আগস্ট জাতি গভীর শোক ও শ্রদ্ধায় স্মরণ করে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সকল সদস্যদের। পালিত হয় জাতীয় শোক দিবস। এবারের শোক দিবস ও মুজিববর্ষ দিবস উপলক্ষ্যে আমাদের চাওয়া ছিল এই যে, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নগুলো যেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাস্তবায়ন করতে সদা তত্পর থাকেন। সেই কালরাত্রির করালগ্রাসে নিহত হওয়া প্রতিটি নিহত রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।
n লেখক :শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
