দোহাজারি-কক্সবাজার রেল লাইন প্রকল্পের কাজ ব্যাহত

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২০, ২২:২৫

করোনা, বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়াসহ নানা প্রতিকূলতা

সৈয়দ আবদুল ওয়াজেদ, চট্টগ্রাম অফিস

করোনা পরিস্থিতি, বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়াসহ নানা প্রতিকূলতায় চট্টগ্রামের দোহাজারি থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার সিঙ্গেল লাইন ডুয়েল গেজ রেল ট্র্যাক প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজ ব্যাহত হচ্ছে। এতে প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ হবে কি না তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে গত প্রায় ৫ মাস কাজের গতি ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়। সম্প্রতি পুনরায় কাজ শুরু করা হলেও প্রায় দেড় সপ্তাহ ধরে বৃষ্টির কারণেও প্রকল্পের কাজ ঘন ঘন থামিয়ে দিতে হয়েছে। এক দিন বৃষ্টি হলে তিন দিন কাজ ব্যাহত হয়। মাটি ও কাঁচা রাস্তা হওয়ায় বৃষ্টির পর প্রকল্প এলাকায় যাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে।

প্রকল্প কর্মকর্তা মফিজুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কাজের গতি নানা পর্যায়ে বিঘ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে অধিগ্রহণকৃত ভূমির বিষয়টিও রয়েছে। কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ভূমির কাগজপত্র প্রকল্প দপ্তরে হস্তান্তর করেছে ঠিকই কিন্তু টাকা পরিশোধ না করায় বহুস্থানে কাজ করতে গিয়ে স্থাপনা সরানো যাচ্ছে না। লোকজন ভূমি আঁকড়ে রাখছে। তিনি বলেন, প্রকল্পের কাজ তবুও চলছে। সামগ্রিক হিসেবে বলা যায় ৪১ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। তার পরও আমরা এখনো আশা করছি প্রকল্পের টার্গেট সময় ২০২২ সালের জুনে কাজটি শেষ হবে।

তিনি বলেন, ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে করিডোরের সঙ্গে সংযোগের লক্ষ্যে প্রথম পর্যায়ে চট্টগ্রামের দোহাজারি হতে রামু হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে রামু হয়ে মিয়ানমারের কাছে গুনদুম পর্যন্ত ২৮ কিলোমিটার মোট ১২৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সিঙ্গেল লাইন ডুয়েল গেজ রেল ট্র্যাক প্রকল্পটি ২০১০ সালে অনুমোদিত হয়। কিন্তু নানা প্রতিকূলতায় প্রকল্পটির কাজ শুরু করা হয় ২০১৮ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে। এই প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮ হাজার কোটি টাকা। প্রকল্পটি নির্মাণের জন্য এডিবি অর্থায়ন করছে ১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এডিবির অর্থ নির্মাণ কাজেই ব্যয় করা হচ্ছে, বাংলাদেশ সরকার দিচ্ছে শুধু ভূমি অধিগ্রহণের টাকা। প্রকল্পটি মূলত দুই পর্যায়ে শেষ করা হবে। বর্তমানে প্রথম পর্যায়ের কাজে ৩৯টি ব্রিজের মধ্যে ৩০টির কাজ প্রায় সমাপ্ত। এই ব্রিজগুলোর জন্য স্টিলের স্প্যান চীন থেকে আসার কথা। স্প্যান লাগানো হলেই সম্পূর্ণ সমাপ্ত ধরা যাবে।

এছাড়া বাকি ব্রিজগুলোর কাজও যথারীতি চলছে। পাশাপাশি প্রথম পর্যায়ের কাজের মধ্যে ১৪৫টি কালভার্টের মধ্যে ৫০টির কাজ শেষ হয়েছে। হাতি চলাচলের জন্য আন্ডারপাস নির্মাণও শেষ। তবে একই ধরনের আন্ডারপাস আরো হবে। এছাড়া প্রথম পর্যায়ের কাজের মধ্যে রয়েছে ৯টি নতুন রেলস্টেশন নির্মাণ। দোহাজারি, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, হারবাং, চকরিয়া, ডুলাহাজরা, ইসলামাবাদ, রামু ও কক্সবাজারে নতুন রেলস্টেশন নির্মিত হতে যাচ্ছে বলেও তিনি জানান।