গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) ৪৯ টি কম্পিউটার চুরির ঘটনায় তদন্ত দলের অব্যাহতিপ্রাপ্ত সদস্য কর্তৃক শিক্ষকদের হুমকি প্রদানের বিষয়ে নিন্দা জানিয়েছে শিক্ষক সমিতি।
বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. হাসিবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মো. রকিবুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন মো. আব্দুল কুদ্দুস মিয়া, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আব্দুর রহিম খান এবং আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. রাজিউর রহমানকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার মো. নজরুল ইসলাম হিরা কর্তৃক ভয়ভীতি প্রদর্শন ও দেখে নেওয়ার হুমকির ঘটনায় শিক্ষক সমিতি তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় হলো একটি সার্বজনীন প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা হলো এর প্রাণ। শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বয়ে বিশ্ববিদ্যালয় একটি নিবিড় জ্ঞানচর্চার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। এখানে কর্মকর্তা-কর্মচারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সহায়ক শক্তি, কোনোভাবেই পরিপূরক বা প্রতিপক্ষ নয়।
জানা যায়, কম্পিউটার চুরির সাথে জড়িত গ্রেফতারকৃত শিক্ষার্থী মাসরুল ইসলাম পনির সাথে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ ওঠে তদন্ত দলের সদস্য ও সহকারী রেজিস্ট্রার মো. নজরুল ইসলাম হিরার বিরুদ্ধে। ফলে তদন্ত কার্যক্রম সকল প্রশ্নের উর্ধ্বে রাখতে তদন্ত দল থেকে ঐ সদস্যকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়। এবিষয়ে তদন্ত দলের অন্যান্য সদস্যদের দেখে নেওয়ার হুমকিসহ ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ ওঠে সহকারী রেজিস্ট্রার মো. নজরুল ইসলাম হিরার বিরুদ্ধে এবং সেটির ভিডিও চিত্রও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোড়ন তোলে।
তবে শুরু থেকেই বিষয়গুলো অস্বীকার করে আসছেন সহকারী রেজিস্ট্রার মো. নজরুল ইসলাম হিরা। তিনি বলেন, আমি কাউকে হুমকি বা ভয়ভীতি প্রদর্শন করিনি। এছাড়া কোনো চোরের সাথে আমার ঘনিষ্ঠতা নেই। চোর ধরতে আমি সহায়তা করেছি। কিন্তু এখন আমি ষড়যন্ত্রের শিকার।
প্রসঙ্গত, গত ২৬ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি থেকে ৪৯টি কম্পিউটার চুরি হয়। চুরির ঘটনায় পুলিশ এ পর্যন্ত ৩৪টি কম্পিউটার উদ্ধার ও এক শিক্ষার্থীসহ সাতজনকে গ্রেফতার করেছে।
ইত্তেফাক/এএম
