গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের ক্রিকেটে প্রতিটা সিরিজের আগে নিয়মিত প্রশ্ন—তামিম ইকবালের সঙ্গী কে?
সেই জাভেদ ওমর বেলিম থেকে শুরু করে সাইফ হাসান; কম ওপেনারের সঙ্গে ইনিংস শুরু করেননি তামিম। মাঝে ইমরুল কায়েস একটু থিতু হয়েছেন। কিন্তু তিনি আবার রাডারের বাইরে চলে গেছেন। সর্বশেষ এই জায়গাটায় একটু স্থিতিশীল হয়েছিলেন তরুণ ওপেনার সাদমান ইসলাম। কিন্তু ইনজুরিতে জায়গাটা হারিয়েছিলেন তিনি। তার বদলি হিসেবে খেলা সাইফ খুব ভালো কিছু করতে পারেননি। সুতরাং টিম ম্যানেজমেন্ট সিদ্ধান্ত নিয়েছে, শ্রীলঙ্কায় সাদমানই থাকবেন তামিমের সঙ্গী হিসেবে প্রথম পছন্দ।
সাদমান ইসলামের অভিষেক হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে, ঢাকায়। অভিষেক ইনিংসে ১৯৯ বলে ৭৬ রান করে ঘরোয়া ক্রিকেটের ‘প্রাচীর’ বলে পরিচিত এ তরুণ নিজেকে প্রমাণ করেছিলেন। এরপর বাকি ১০ ইনিংসে পঞ্চাশ আর পার করতে না পারলেও টুকটাক ভালো শুরু এনে দিতে পেরেছেন তামিমের সঙ্গে।
২০১৯ সালের নভেম্বরের পর ইনজুরির কারণে আর খেলতে পারেননি সাদমান। বেশ কিছুদিন ধরেই ইনজুরিতে ভুগছিলেন। কবজির চোট নিয়ে খেলেছেনও। কিন্তু দিনকে দিন সেই ব্যথাটা বাড়ছিল। অবশেষে গত এপ্রিলে শুরুর দিকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাকে পাঠিয়েছিল অস্ট্রেলিয়ায় অস্ত্রোপচারের জন্য। অস্ত্রোপচার শেষে দেশে ফিরে কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন। তারপর একক অনুশীলন শুরু হলে সেখানে যোগ দিয়েছেন।
বিসিবি সূত্রে জানা গেল, এখন খেলার জন্য পুরোপুরি ফিট তিনি। টিম ম্যানেজমেন্টের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র বলল, ‘সাদমান পুরোপুরি ফিট। ও সুস্থ থাকতে যেহেতু তামিমের সঙ্গী হিসেবে ও প্রথম পছন্দ ছিল, তাই শ্রীলঙ্কাতে তারই শুরু করার কথা। তবে সাইফও বিবেচনার বাইরে যাচ্ছে না।’
সাদমানের অনুপস্থিতিতে সাইফ দুটি টেস্ট খেলেছেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে রাওয়ালপিন্ডি ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মিরপুরে খেলেছেন। তিনটি ইনিংসে খুব ভালো কিছু করতে পারেননি। তবে এই তিন ইনিংস দেখেই তাকে ছুড়ে ফেলবে না ম্যানেজমেন্ট। তাই তাকে স্কোয়াডে রাখা হবে বলেই জানালেন টিম ম্যানেজমেন্টের সূত্র, ‘ও মাত্র তিনটে ইনিংস খেলেছে। ঘরোয়া ক্রিকেট ও এ-দলের হয়ে ভালো খেলে এসেছে। ফলে সে নিশ্চয়ই বিবেচনার বাইরে চলে যাবে না।’
তামিম ও সাদমান প্রথম পছন্দ হিসেবে ইনিংস শুরু করবেন। এরপর সাদমান খুব হতাশ করলে হয়তো সাইফের সুযোগ আসতে পারে। তবে শ্রীলঙ্কাতে এই তিন জনের বাইরে আর কোনো ওপেনারের যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। ফলে প্রচুর পরিশ্রম করলেও এ সফরে অস্বাভাবিক কিছু না ঘটলে যাওয়া হচ্ছে না ইমরুল কায়েসের।
ইমরুলের সর্বশেষ ইনিংসগুলো তার পক্ষে দাঁড়াতে পারছে না। তিনি সর্বশেষ ১০ ম্যাচে একেবারেই বলার মতো কিছু করতে পারেননি।
