মোজাহেদুল ইসলাম
বর্তমান সময়ে চাকরির বাজারে বেশ প্রতিযোগিতা চলছে। সরকারি চাকরির পাশাপাশি বেসরকারি চাকরির দিকেও ঝুঁকছেন এ প্রজন্মের তুরণ-তরুণীরা। আপনি যদি চাকরি করতেই চান তাহলে আপনাকে হতে হবে একটু কৌশলী। এমন অনেক খাত রয়েছে যেখানে নিশ্চিত চাকরির সুযোগ আছে। এমন একটি পেশার নাম হলো শেফ। আপনি যদি নিজেকে একজন শেফ হিসেবে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারেন তাহলে আপনাকে আর চাকরির জন্য হয়রান হতে হবে না।
শিক্ষাগত যোগ্যতা যেমন লাগবে
এইচএসসি পাস করার পর হোটেল ম্যানেজমেন্টের ওপর অনার্স কোর্স করে এই পেশায় আসা যায়। তাছাড়া ফুড অ্যান্ড বেভারেজ প্রোডাকশনের ডিপ্লোমা কোর্স সম্পন্ন করেও এই পেশায় আসা যায়। ইংরেজি ভাষার উপরে ভালো দক্ষতা থাকলে এই পেশায় সহজেই সফল হওয়া সম্ভব। আপনি এসএসসি বা এইচএসসির পরেই যেকোনো শেফ কোর্স করে শেফ হিসেবে প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন। বাংলাদেশের শেফ হিসেবে প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য মূলত কোনো বিশেষ ডিগ্রির প্রয়োজন হয় না।
যেখানে প্রশিক্ষণ নেওয়া যাবে
হোটেল ম্যানেজমেন্ট কোর্সের একটি অংশ হচ্ছে শেফ বা কুক। বর্তমানে বেসরকারিভাবে অনেক রেস্টুরেন্ট ও প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ধরনের শেফ কোর্সটি করিয়ে থাকে। এমনকি তারা কোর্স সমাপ্তির পর দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ করেও দেয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় শেফের কোর্স করতে পারবেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, ন্যাশনাল হোটেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ট্রেনিং ইন্সটিটিউট (মহাখালী), বাংলাদেশ হোটেল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ট্যুরিজম ট্রেনিং ইন্সটিটিউট , ইন্সটিটিউট অব ট্যুরিজম অ্যান্ড হোটেল ম্যানেজমেন্ট , বাংলাদেশ স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইন্সটিটিউট, রাজমণি ঈশা খাঁ হোটেল ম্যানেজমেন্ট ট্রেনিং কোর্স ইত্যাদি।
এছাড়াও, দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কিংবা উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা অনেক প্রতিষ্ঠানেও সরকারিভাবে শেফ কোর্স করতে পারবেন।
যেমন খরচ লাগবে
দুই মাস, ছয় মাস ও এক বছর মেয়াদি সার্টিফিকেট কোর্সের সম্ভাব্য খরচ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। ফুড অ্যান্ড বেভারেজ প্রোডাকশন কোর্স সম্পন্ন করতে পারবেন ৫ হাজার টাকা থেকে ৬০ হাজার টাকার মধ্যে। আর ডিপ্লোমা-ইন প্রোফেশনাল শেফ কোর্সের সম্ভাব্য খরচ ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকার মতো। যারা বেসরকারিভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শেফ কোর্স করতে চান, তাদের ক্ষেত্রে হয়তো কোর্সের সম্ভাব্য খরচ আরো বৃদ্ধি পেতে পারে। সেক্ষেত্রে, কোর্সের সাথে ভিসার খরচ এবং ভাষা প্রশিক্ষণের খরচও যুক্ত করা হয়। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, বিভিন্ন শেফ কোর্সের ফি কিস্তিতে দেয়া যায়। অর্থ সমস্যায় থাকলে সেসকল প্রতিষ্ঠান থেকে কোর্স করতে পারেন।
কাজের ক্ষেত্র
শেফদের চাহিদা বর্তমানে তুঙ্গে। কারণ দেশের পাঁচতারা রেস্টুরেন্টগুলো থেকে শুরু করে বিভিন্ন ছোটোখাটো রেস্টুরেন্টেও এখন বাবুর্চির বদলে শেফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। তাছাড়া এইসব জায়গায় কিছুদিন পরপরই শেফদের সংকট দেখা যায়। আর শেফ হিসেবে বিদেশে যাওয়ার সুযোগের কথা তো আমরা সবাই জানি। দেশের বাইরে ভারত, জাপান, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, জার্মানিসহ আরো অনেক দেশেই বর্তমানে বাংলাদেশি শেফরা কাজ করছেন। প্রশিক্ষণ নিয়ে শেফ হতে পারলে দেশের পাশাপাশি বিদেশেও রয়েছ চাকরির সুযোগ। অনেক ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ চলাকালীন অবস্থায় ইন্টার্নি করারও সুযোগ থাকে। প্রায় সময়েই দেখা যায়, যে প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নি করেছেন, সেই প্রতিষ্ঠানেই ভালো পদে কাজ পেয়ে যান অনেকেই। তাছাড়া ইন্টার্নির সুযোগকে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা হিসেবে ব্যবহার করে দেশে ও বিদেশে নিজের একটি ভালো অবস্থান তৈরি করা যায়। তবে মনে রাখবেন, এই পেশায় কাজের মানের প্রশ্নে অবশ্যই সচেতন হতে হবে। আপনি কতদূর শিখলেন, কতটুকু জানেন, আপনার রান্না ও পরিবেশনায় মানুষকে কতটুকু মুগ্ধ করতে পারছেন, এগুলোর ওপরেই নির্ভর করবে এই পেশায় আপনার ভবিষ্যত্।
যে কারণে এ পেশা বেছে নিতে পারেন
বর্তমানে বাংলাদেশের প্রত্যেক জেলাতেই গড়ে উঠছে আন্তর্জাতিক মানের হোটেল, মোটেল ও ফাস্ট ফুড রেস্টুরেন্ট। একই সঙ্গে বাড়ছে দক্ষ শেফের চাহিদা। তাছাড়া বাংলাদেশি খাবার সবসময়ই বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে অনেক জনপ্রিয়। এছাড়াও বর্তমানে বাংলাদেশি শেফরা দেশি, বিদেশি, চাইনিজ ও ইন্ডিয়ানসহ বিভিন্ন দেশের খাবার রান্না করা শিখে দেশের বাইরেও কাজ করছেন। আর সেসব দেশে বাংলাদেশি কুক বা শেফদের চাহিদাও রয়েছে। একজন শেফ বিভিন্ন হোটেল ও রেস্টুরেন্ট ছাড়াও চাকরি পেতে পারেন বিভিন্ন এয়ার লাইন্স কোম্পানি, ট্যুর ও ট্রাভেল এজেন্সির কুক বিভাগে।
আয়-রোজগার
প্রতিষ্ঠান, কাজ ও অভিজ্ঞতাভেদে বেতন কাঠামোতে পার্থক্য হয়। চাকরির শুরুতে একজন শেফের বেতন হয়ে থাকে ১৫ থেকে ১৮ হাজার টাকা। অভিজ্ঞদের বেতন হয় ৩০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত।
