পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দিল্লিতে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে দিল্লির লোদি রোডের শ্মশানে গান স্যালুটের মাধ্যমে শেষ বিদায় জানানো হয় দেশটির ১৩তম রাষ্ট্রপতিকে। খবর এনডিটিভি ও আনন্দবাজার পত্রিকার।
গত সোমবার দিল্লির আর্মি রিসার্চ অ্যান্ড রেফারেল হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন প্রণব মুখার্জি। এর আগে গত ৯ আগস্ট দিল্লির ১০ রাজাজি মার্গের বাসভবনের বাথরুমে পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পান তিনি। পরদিন তাকে নয়াদিল্লির সেনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঐ আঘাতের কারণে তার মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বাঁধে। সেদিনই অস্ত্রোপচার করে জমাট বাঁধা রক্ত বের করা হয়। ঐ অস্ত্রোপচারের আগে পরীক্ষায় তার করোনার সংক্রমণ ধরা পড়ে। নিজেই করোনা সংক্রমিত হওয়ার খবর টুইট করে জানিয়েছিলেন প্রণব মুখার্জি। ভেন্টিলেটরে থাকা অবস্থায় ১৩ আগস্ট থেকে তিনি গভীর কোমায় চলে যান। এরপর বিভিন্ন সময়ে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়।
ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, প্রণব মুখার্জি কোভিড-১৯ পজিটিভ ছিলেন। তাই দিল্লির রাজাজি রোডের বাড়ি থেকে শুরু করে লোদি রোড মহাশ্মশান—সর্বত্রই কোভিড প্রোটোকল মেনে শেষকৃত্য হয়। সামরিক যানের পরিবর্তে তার লাশ নেওয়া হয় শবগাড়িতে। পিপিই পরেই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করেন ছেলে অভিজিত্ মুখার্জি। পরিবারের অন্য সদস্যরাও পিপিই পরে শামিল হয়েছিলেন শেষকৃত্যে। এছাড়া কোভিড প্রোটোকল মেনে শ্মশানেও লোকসংখ্যা সীমিত রাখা হয়েছিল।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ জনগণের শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য প্রণব মুখার্জির মরদেহ তার সরকারি বাসভবন দিল্লির ১০ রাজাজি মার্গে সকাল ৯টা ১৫ মিনিট থেকে ১০টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত রাখা হয়। সেখানে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ ক্ষমতাসীন, বিরোধী সব দলের রাজনীতিকেরা তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। তবে কোভিডের কারণে মৃতদেহ বাড়ির একটি ঘরে রাখা হয়। সেখানে কাউকে যেতে দেওয়া হয়নি। এর পরিবর্তে একটি বেদি তৈরি করে প্রণবের ছবি রাখা হয়। সেই ছবিতেই ফুল-মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানান সবাই। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে নরেন্দ্র মোদি এক টুইট বার্তায় বলেন, শ্রদ্ধেয় প্রণব মুখার্জিকে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেছি। ভারতের সমৃদ্ধিতে তার প্রচেষ্টার কথা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে স্মরণ করা হবে।
সাবেক রাষ্ট্রপতিকে শ্রদ্ধা জানাতে হাজির হয়েছিলেন উপরাষ্ট্রপতি বেঙ্কাইয়া নাইডু, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ বিপিন রাওয়াত, সস্ত্রীক সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, কংগ্রেসের লোকসভার দলনেতা অধীর চৌধুরী, কংগ্রেস সংসদ সদস্য রাহুল গান্ধী, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালসহ বহু নেতা-মন্ত্রী ও সাধারণ মানুষ। প্রণব মুখার্জির প্রয়াণে শোক প্রকাশ করে দুই মিনিট নীরবতা পালন করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা।
তার মৃত্যুতে সাত দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। এই সাত দিন জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। ৮৪ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করা প্রণব মুখার্জি দুই ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। তাঁর স্ত্রী ২০১৫ সালে মারা যান। ২০১৯ সালে তিনি সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ভারতরত্ন পান।
