করোনা পরিস্থিতির শুরুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কুকুর ছিল প্রায় আড়াইশত। গত চার মাসের ব্যবধানে ক্যাম্পাসে এ সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে দেড়শ’তে। করোনাকালীন পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতিতে শুরু হয় খাবারের সঙ্কট। এ সংকটে টিকতে না পেরে ক্যাম্পাস ছাড়ে কুকুরগুলো। তবে কুকুর-বিড়ালসহ ক্যাম্পাসের প্রাণীগুলোকে করোনা পরিস্থিতির শুরু থেকে খাবার ও চিকিৎসা সহায়তা দিয়ে আসছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের (সিএসই) স্নাতকোত্তর শ্রেণির ছাত্র তাওহিদ তানজিম।
করোনার শুরু থেকে এ পর্যন্ত ১৩৫ দিন যাবত সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন তারা। এছাড়া শুরুতে কিছুদিন সহায়তা দিয়েছিল ডাকসুর সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক (জিএস) গোলাম রাব্বানী ও তার কয়েকজন অনুসারী। তানজীম নিজ উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এলাকার কুকুর, বিড়াল ও পাখিগুলোকে গত মার্চ মাসের ২৭ তারিখ থেকে খাওয়াচ্ছেন। এ কার্যক্রমে সহায়তা করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ বৈকল্য বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান। যিনি নিজেও ক্যাম্পাসের পথ-প্রাণীদের নিজ উদ্যোগে খাওয়ানো শুরু করেছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী সাবরিনা সাব্বির ও লন্ডন কলেজ অফ লিগ্যাল স্টাডিজের শিক্ষার্থী সাফা শরিফ।
এ কাজ সম্পর্কে তানজীম জানান, কাজের শুরুটা হয়েছিল সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে। পরবর্তী সময়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন আরও অনেকেই। চলমান দুর্যোগের সময়ও বিভিন্ন পশুপ্রেমী দলের সহযোগিতায় তারা সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন ক্যাম্পাসের পথ-প্রাণীদের খাবারের ব্যবস্থা করেন।
তানজিম বলেন, ক্যাম্পাসের প্রাণীদের পাশে দাঁড়ানোর ভিন্ন চিন্তা নিয়ে আমি আমার নিজ অর্থায়নে ক্যাম্পাসে প্রাণীদের খাওয়ানোর কাজটি শুরু করেছিলাম। পরবর্তী সময়ে আমার কিছু বন্ধুও যুক্ত হয়।
তানজিম, মাহমুদুল, সাবরিনা ও সাফার উদ্যোগে কলাভবন, মলচত্বর, নাটমণ্ডল, কার্জন হল মুকাররম ভবন, টিএসসি এলাকা, শহীদ মিনার, বুয়েটের আশেপাশে পশুদের খাবার দেওয়া হয়, আর বিভিন্ন হলের গেটে দায়িত্বরত গার্ডদেরকেও প্রাণীদের খাবার দেওয়ার জন্য খাবার সরবরাহ করা হয়।
নিজের কাজের প্রতি ভালোবাসা সম্পর্কে বলতে গিয়ে তাওহিদ তানজিম বলেন, অনেকগুলো ভালোলাগা মুহূর্তের একটি উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত ছিল যখন ক্যাম্পাসের কুকুরগুলো ভালোবেসে আমার বাড়ি পর্যন্ত অনুসরণ করে চলে এসেছিল। পথ-প্রাণীদের ভালোবাসাই আমার জীবনে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তির। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কুকুর কমে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে তানজীম বলেন, আমরা কুকুরকে খাবার দিলেও আর্থিক সঙ্কটের কারণে প্রতিদিন আমরা খাবার সরবরাহ করতে পারি না। করোনা পরিস্থিতির শুরুতে ভালো ফান্ডিং পেলেও এখন সেভাবে আর্থিক সহায়তা আসছে না—যে কারণে অনেকগুলো কুকুর খাবারের অভাবোধ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ছেড়ে যায়। অনেক কুকুর ক্ষুধার জ্বালায় অন্য কুকুরদের কামড়ায়ও। যে কারণে ইনফেকশান হয়েও কুকুরগুলো মারা যায়।
জাবিতে আছেন মাহফুজ :জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মাহফুজুর রহমান। প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা থেকেই ডিপ ইকোলজি অ্যান্ড স্নেক রেসকিউ অর্গানাইজেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান চালু করেছেন তিনি। মাহফুজের সঙ্গে আছেন প্রতিষ্ঠানটির সাধারণ সম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী শুভ শর্মা। লকডাউন শুরু হওয়ার পর ক্যাম্পাসের সিনিয়র, শিক্ষক ও বন্ধুদের সাহায্য নিয়ে তারা কুকুর-বিড়ালগুলোর খাবার দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেন। শুরুতে মাহফুজ ও শুভ বাজার করতেন। রান্না করতেন সংগঠনের আরেক সদস্য লুবনা আহমেদ। এরপর রিকশায় ঘুরে ক্যাম্পাসের প্রায় ২০টি জায়গায় চলত খাবার বিতরণ।
