মৃতপ্রায় একদা খরস্রোতা সাইডুলী নদী বেকার জেলে পরিবারগুলো

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:২০

কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) সংবাদদাতা

এক সময়ের খরস্রোতা কেন্দুয়া উপজেলার সাইডুলী নদীটি এখন মৃতপ্রায়। প্রায় ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ৩শ’ থেকে ৪শ’ ফিট প্রস্থ মগড়া নদীর শাখা নদী সাইডুলী রূপ-লাবণ্য আর মত্স্য সম্পদে ছিল সমৃদ্ধ। কয়েক বছর আগেও এই নদীপথ দিয়ে চলতো ছোট-বড় অসংখ্য নৌকা।

কিন্তু কালের আবর্তে সাইডুলী নদীতে এখন আর দেখা মিলে না বাহারি সব নৌকা চলাচলের দৃশ্য। অথচ এক সময় এই নদীপথে ধান, পাটসহ বাণিজ্যের মালামাল নৌকায় পরিবহন করা হতো। নদীপথের বাণিজ্যকে কেন্দ্র করেই তখন সাইডুলী নদীর তীরে গড়ে উঠেছিল মোকাম ও নৌঘাট গোগবাজার। আজ অতীতের স্মৃতি ধারণ করে কালের সাক্ষী হয়ে ‘গোগবাজার’ই শুধু রয়েছে গেছে।

বর্ষা মৌসুমে ৩-৪ মাস সাইডুলীর বুকে কিছুটা পানি প্রবাহ থাকে। এছাড়া সারাবছরই সাইডুলী আর নদীরূপে থাকে না। মরা খালে পরিণত হয়েছে। এলাকার সাধারণ মানুষ নদী পারাপার হচ্ছেন পায়ে হেঁটেই। নদীর বুক জুড়ে তৈরি হয়েছে অসংখ্য বীজতলা। কোথাও কোথাও চাষ করা হয়েছে ধান ও সরিষাসহ নানারকম ফসল।

নদীর এমন করুণ দুর্দশার প্রভাব পড়েছে নদী তীরবর্তী গ্রামগুলোর কৃষকসহ জেলে পরিবারগুলোর জীবনেও। বোরো মৌসুমে এই নদীর পানির মাধ্যমে সেচ দিয়ে কৃষকরা তাদের জমি চাষাবাদ করতেন। কিন্তু নদীতে পানি না থাকায় কৃষকরা তাদের বোরো চাষ করতে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। অপরদিকে এই সাইডুলী নদীই ছিল নদী তীরবর্তী জেলে পরিবারগুলোর জীবিকা নির্বাহের একমাত্র উপায়। কিন্তু দখল, দূষণ ও নাব্যতা সংকটসহ নানাবিধ কারণে নদীর এমন বেহালদশায় জেলেরাও হয়ে পড়েছে কর্মহীন।

সাইডুলী নদী তীরবর্তী নওপাড়া ইউনিয়নের কাউরাট গ্রামের মত্স্যজীবী জুনায়েদ মিয়া জানান, এই নদীতে মাছ ধরে এবং তা বিক্রি করেই জেলেদের সংসার চলতো। কিন্তু এখন নদীতে পানি নাই। মাছও নাই। তাই জেলেরা কর্মহীন অবস্থায় বেকার ও পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে।

একই গ্রামের কৃষক মুক্তুল হোসেন বলেন, নদী ভরাট হয়ে গেছে। পানি নাই। তাই কৃষকরা বোরো চাষ নিয়ে অনেক দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। নদীতে পানি না থাকা বিকল্প ব্যবস্থায় সেচ দিয়ে চাষাবাদ করতে হচ্ছে।

তাই অবিলম্বে সাইডুলী নদী খনন করে নদীর পানি প্রবাহ ফিরিয়ে দেওয়া, স্থানীয় জেলেদের কর্মসংস্থান ও এলাকার কৃষকদের চাষাবাদের সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়ার জন্যও তিনি সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন।  

এ বিষয়ে কেন্দুয়া উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন জানান, বর্ষা মৌসুমে নদীতে অভয়াশ্রম স্থাপনের মাধ্যমে মাছের উত্পাদন বৃদ্ধির চেষ্টা করে যাচ্ছি। তবে জরুরি মৃতপ্রায় এই নদীটি খননসহ প্রয়োজনীয় সংস্কার করা দরকার।

নদী তীরবর্তী জেলে পরিবারগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে নিবন্ধনের মাধ্যমে জেলেদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সরকারের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।