প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা দলের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে মনোযোগী হতে দলের নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ বারবার আমাদের ভোট দিয়েছে দেশকে এগিয়ে নিতে। সরকারের নেওয়া দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের জন্য। আমরা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলাম। আজ আমাদের রিজার্ভ ৩৯ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ইউএস ডলার। আমাদের প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ২ ভাগ টার্গেট করেছিলাম। এপ্রিল পর্যন্ত আমরা ৭ দশমিক ৮ অর্জন করেছিলাম। কিন্তু করোনার কারণে কমে গেছে। এরপরও অর্থনৈতিকভাবে আমরা একটা ভালো অবস্থানে আছি।’
গতকাল বুধবার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রত্যেকের যার যার বিষয়ভিত্তিক দায়িত্বটা পালন করা দরকার। নির্বাচনি ইশতেহারে যে ঘোষণাগুলো দিয়েছি, তা বাস্তবায়নে যে কৌশল নেওয়া হয়েছে, তা যথাযথ কি না, তা কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে, সেগুলো আলোচনা করা উচিত।’
করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে থমকে যাওয়া সাংগঠনিক তত্পরতা শুরু করার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখন সংগঠনকে সুসংগঠিত করতে হবে। করোনার কারণে অনেক জায়গায় সম্মেলন হলেও কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয়নি। এখন সেগুলোর পূর্ণাঙ্গ করতে ব্যবস্থা নিতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রকে (টিএসসি) নতুনভাবে গড়ে তোলা হবে। মূল পরিকল্পনা ঠিক রেখে আধুনিকায়ন করা হবে টিএসসিকে। একই সঙ্গে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালকে ৫ হাজার রোগী ধারণক্ষমতা সম্পন্ন আধুনিক হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তোলা হবে। কারণ সারাদেশ থেকে রোগী এখানে সেবা নিতে আসে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন হলগুলো সংস্কার করা হবে। একই সঙ্গে সংস্কার করা হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুকুরগুলো। পাবলিক লাইব্রেরিকে ডিজিটাল করে উন্নত করা হবে, যুক্ত হবে ডিজিটাল ব্যবস্থা।’
বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সদ্য প্রয়াত ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘প্রণব মুখার্জি বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু ছিলেন। বাংলাদেশের যেকোনো সময়ে পাশে ছিলেন তিনি। পঁচাত্তরের পর আমরা যখন দিল্লিতে ছিলাম, তিনি ও তার পরিবার সব সময় আমাদের দেখাশোনা করেছেন। দেশে ফেরার পরও প্রণব মুখার্জি সহযোগিতা এবং উত্সাহ দিয়েছেন। বিশেষ করে পদ্মা সেতু বিষয়ে যখন দুর্নীতির কথা উঠল আমার বিরুদ্ধে এবং ওয়ান ইলেভেনের সময় তিনি আমাদের পাশে থেকে সহযোগিতা করেছেন। ওয়ান ইলেভেনে জেলখানায় যখন ছিলাম তখনো তিনি আমাদের খোঁজ-খবর নিয়েছেন।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রণব মুখার্জির মৃত্যুতে ভারত হারাল একজন বিজ্ঞ ও দেশপ্রেমিক নেতাকে আর বাংলাদেশ হারাল একজন আপনজনকে।’
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, ‘আমাদের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডকে এখন সীমিত পরিসরে চালু করতে হবে। সামনে পাঁচটি সংসদীয় আসনে উপনির্বাচন আছে, জরিপে দেখা গেছে, এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এগিয়ে রয়েছে। দলীয় প্রার্থীদের বিজয়ী করতে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ’
আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৪তম জন্মদিন। সীমিত পরিসরে সভানেত্রীর জন্মদিন উদ্যাপনের প্রস্তাব করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। কিন্তু সেই প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমার জন্মদিন পালনের প্রস্তাব আমি গ্রহণ করছি না। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সভায় সভাপতিত্ব করেন।
গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা দ্রুত নির্মাণের নির্দেশ
এদিকে গতকাল গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নিয়ে অন্য এক অনুষ্ঠানে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের দেশটা স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। এই দেশটাকে আমরা সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে চাই এবং আমরা স্বাধীন দেশ এবং স্বাধীন জাতি। বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে, বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমরা চলতে চাই।’ সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে বিপিএটিসির প্রশিক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের ২০তলা বিশিষ্ট ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবন’ এর নকশা এবং ‘ময়মনসিংহ বিভাগীয় সদর দপ্তর স্থাপনের জন্য প্রস্তাবিত প্ল্যান-এর ভূমি ব্যবহার’ পরিকল্পনার উপস্থাপনা দেখতে গিয়ে এ নির্দেশনা দেন।
