সুজনের আলোচনায় বক্তারা

ইসিকে পঙ্গু করছেন নির্বাচন কমিশনাররা

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:৩১

আরপিও থেকে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা বাদ দেওয়া, রাজনৈতিক দলের কমিটিতে নারী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় সময়সীমা উঠিয়ে দেওয়াসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনাররা কমিশনকে পঙ্গু করছেন। তারা সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন না করে নিজেদের প্রটোকল, গাড়ি-বাড়িসহ সুযোগ-সুবিধা ভোগের মধ্যে রয়েছেন। আইন সংস্কারের মাধ্যমে নিজেদের ক্ষমতা খর্ব করে তা সরকারের হাতে দায়িত্ব তুলে দিতে চান। বুধবার সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন আয়োজিত অনলাইন গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব অভিযোগ করেন। নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে আইন প্রণয়নেরও দাবি জানান তারা।

সুজনের সভাপতি এম হাফিজউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনলাইন আলোচনায় অংশ নেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার ড. এম সাখাওয়াত হোসেন, বিচারপতি আবদুল মতিন, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমদ, বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক, অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, সিনিয়র সাংবাদিক সোহরাব হাসান, সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান, সুজন নেতা আবু নাসের বখতিয়ার, সঞ্জীব দ্রং প্রমুখ। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার। সভা পরিচালনা করেন সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার।

এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বর্তমান কমিশনের একটি ভালো দিক হলো এক জন কমিশনার প্রায়ই নোট অব ডিসেন্ট দেন। এতে ইসির ভেতরের তথ্য জানা যায়। তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশের কমিশন স্বাধীন। কিন্তু ইসি মিশ্র কমিশনের দিকে যাচ্ছে কি না সে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

আলী ইমাম মজুমদার বলেন, আইন সংশোধনের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কমিশন নিজেদের ক্ষমতাহীন করতে চাচ্ছে।

 তোফায়েল আহমেদ বলেন, যে নির্বাচন কমিশন দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে ব্যর্থ হয়েছে তাদের আইন সংশোধনে হাত দেওয়ার এখতিয়ার আছে বলে আমি মনে করি না।

ড. শাহদীন মালিক বলেন, সংবিধান অনুযায়ী ইসির যে কাজ তাতে আইন সংস্কারের প্রস্তাব তার মূল কাজের মধ্যে পড়ে না। স্বপ্রণোদিত হয়ে আইন সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া তাদের এখতিয়ার বহির্ভূত। তারা আইনের বিষয়ে মতামত দিতে পারে।