আগামীকাল বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের ৪৯তম শাহাদাতবার্ষিকী

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৯:৪১

আগামীকাল শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর)। বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের ৪৯তম শাহাদাতবার্ষিকী। এ উপলক্ষে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ ট্রাস্ট ও নড়াইলের জেলা প্রশাসন বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। 

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে নূর মোহাম্মদ নগরে কোরআনখানি, স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ, জেলা পুলিশ কর্তৃক সশস্ত্র সালাম এবং দোয়া মাহফিল। 

১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর যশোর জেলার গোয়ালহাটি গ্রামে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধে শাহাদাতবরণ করেন তিনি। এদিন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ এবং দলীয় সঙ্গীদের জীবন ও অস্ত্র রক্ষা করতে গিয়ে শহীদ হন নূর মোহাম্মদ শেখ। যশোর জেলার শার্শা উপজেলার কাশিপুর গ্রামে তাঁকে সমাহিত করা হয়। 

আরো পড়ুনঃ অপরাধী যেই হোক আইনের আওতায় আনা হবে: ওবায়দুল কাদের

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ৫ সেপ্টেম্বর নূর মোহাম্মদ শেখ যশোরের ঝিকরগাছার গোয়ালহাটি গ্রামে একটি টহলের নেতৃত্ব দিয়ে পার্শ্ববর্তী ছুটিপুর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ঘাঁটির ওপর নজর রাখছিলেন। পাকিস্তানি বাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের বিপজ্জনক অবস্থায় ফাঁদে ফেলার পরিকল্পনা বুঝতে পেরে নূর মোহম্মদ সঙ্গীদের নিয়ে হানাদার বাহিনীর ঘাঁটিতে আক্রমণ করেন। যুদ্ধ চলাকালে মারাত্মক আহত সঙ্গী নান্নু মিয়াকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে হানাদারদের মর্টার শেলের আঘাতে মারাত্মক আহত হন নূর মোহম্মদ। মৃত্যু অনিবার্য জেনেও তিনি সিপাহী মোস্তফা কামালের হাতে নেতৃত্ব তুলে দিয়ে আহত নান্নু মিয়াকে নিয়ে সবাইকে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে নির্দেশ দেন। মৃত্যু পথযাত্রী নূর মোহম্মদ এসএলআর নিয়ে শেষ বারের মতো ঝাঁপিয়ে পড়েন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ওপর। হানাদারদের শেষ করে নিজে শহীদ হন। পরবর্তীতে নিকটবর্তী একটি ঝোপের পাশে এই বীরের মৃতদেহ পাওয়া যায়। 

নূর মোহাম্মদ ১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নড়াইল সদর উপজেলার চন্ডিবরপুর ইউনিয়নের মহিষখোলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মোহাম্মদ আমানত শেখ ও মা জেন্নাতুন্নেছা, মতান্তরে জেন্নাতা খানম। বাল্যকালেই বাবা-মাকে হারান তিনি। মহিষখোলার নাম পরিবর্তন করে ২০০৮ সালের ১৮ মার্চ নূর মোহাম্মদ নগর করা হয়।

ইত্তেফাক/এমএএম