নিঃশ্বাস জানাইয়া দিবে ক্যান্সারের খবর

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:৩৪

মানবসভ্যতায় বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা এখন যেই স্তরে বিকশিত হইয়াছে, তাহার মধ্যে চিকিত্সাবিজ্ঞান তুলনামূলকভাবে পিছাইয়া রহিয়াছে বলিয়া মনে করা হয়। মানুষের ভালোভাবে বাঁচিয়া থাকিবার সহিত চিকিত্সাবিজ্ঞান ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকিবার কারণে এবং বাণিজ্যেরও একটি বড় ক্ষেত্র হইবার কারণে এই বিজ্ঞান লইয়া নিত্যনূতন গবেষণার শেষ নাই। যেই সকল দুরারোগ্য ব্যাধিতে মানুষ শারীরিক ও অর্থনৈতিকভাবে খুব দ্রুত ভাঙিয়া পড়ে তাহার মধ্যে ক্যান্সার অন্যতম। গবেষকেরা বলিয়াছেন যে, ক্যান্সার যত দ্রুত শনাক্ত করা যায় ততই মঙ্গল, তাহাতে চিকিত্সা শুরু করা যায় তাড়াতাড়ি। ক্যান্সার চিকিত্সার ব্যয়ও তাহাতে অনেক হ্রাস পায়। সমপ্রতি যুক্তরাজ্যের গবেষকরা দেখিয়াছেন যে, শরীরে ক্যান্সারের আলামত থাকিলে কিংবা শরীরের কোনো কোষ ক্যান্সার আক্রান্ত হইলে এক ধরনের প্রাণ-রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে। নিঃশ্বাসে নিঃসৃত হয় ভোলাটাইল অরগ্যানিক কমপাউন্ডস নামে এক ধরনের অণু। ইহাতে চিকিত্সকেরা আশা করিতেছেন যে, কেবল নিঃশ্বাস পরীক্ষা করিয়াই ক্যান্সার শনাক্ত করা সম্ভবপর হইবে। গবেষণাটি এখনো শেষ না হইলেও এই পদ্ধতিটি যদি সফল হয়, তাহা হইলে চিকিত্সকেরা শুরুতেই নির্ধারণ করিতে পারিবেন ওই রোগীর আরো বিশদ পরীক্ষানিরীক্ষার দরকার রহিয়াছে কি না।

ক্যান্সার কতোটা জীবন-হন্তারক এবং একটি পরিবারে কী ভয়াবহ বিপর্যয় ডাকিয়া আনিতে পারে— তাহা তৃতীয় বিশ্বের ভুক্তভোগীরা সবচাইতে ভালো জানেন। ইতিপূর্বে মাত্র পাঁচশত টাকায় এবং স্বল্পতম সময়ে ক্যান্সার শনাক্তের খবর আমরা দেখিয়াছি। আগেই বলা হইয়াছে, কাহারো শরীরে যদি ক্যান্সারের আভাস পাওয়া যায় এবং তাহা যদি আগেভাগেই শনাক্ত করা যায়, তাহা হইলে খুব দ্রুত তাহার চিকিত্সা শুরু করাও সম্ভব হয়। ইহাতে ব্যয়ও কমিবে চিকিত্সার এবং সম্ভাবনা বাড়িবে পুরাপুরি আরোগ্যের। বিশ্বব্যাপী প্রতি বত্সর বিপুল সংখ্যক মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। বাংলাদেশে প্রতি বত্সর ক্যান্সারে আক্রান্ত হয় তিন লক্ষাধিক মানুষ। আর তাহাদের মধ্যে মৃত্যু ঘটে আড়াই লক্ষাধিক মানুষের। গরিব দেশ বিধায় আমাদের দেশে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ক্যান্সার শনাক্ত হয় অনেক দেরিতে, বিপজ্জনক স্তরে আসিয়া। দেখা গিয়াছে, এই রোগ নির্ণয়ের পরে মাত্র ৩০ শতাংশ রোগী পাঁচ বত্সরের বেশি সময় বাঁচিতে পারেন। অথচ প্রাথমিক স্তরে ক্যান্সার শনাক্ত করা সম্ভব হইলে প্রচলিত আধুনিক চিকিত্সায় ক্যান্সার নিরাময় সম্ভব। এমনকী চূড়ান্ত স্তরের কয়েক ধাপ পূর্বেও ক্যান্সার ধরা পড়িলে রোগটিকে বহুলাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এইজন্যই প্রাথমিক স্তরে যথাযথভাবে ক্যান্সার শনাক্তকরণের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই শনাক্তকরণের কাজটি যদি নির্ভুল ও সাশ্রয়ী হয়, তবে তাহা লক্ষ জীবন বাঁচাইবার ক্ষেত্রে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখিবে বটে।

সুতরাং নিঃশ্বাসের মাধ্যমে ক্যান্সার শনাক্তের গবেষণার সাফল্যটি চিকিত্সাবিজ্ঞানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এইক্ষেত্রে অবশ্যই ক্যান্সার নিরাময়ে আমাদের আশ্রয় লইতে হইবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত আধুনিক চিকিত্সাব্যবস্থার। তবে ক্যান্সারের ব্যাপারে সচেতনতারও বিকল্প নাই। কারণ, কেবল সচেতনতার মাধ্যমেই এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নামাইয়া আনা সম্ভব।