মো. লুত্ফুর রহমান, কুমিল্লা প্রতিনিধি
এই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের কুমিল্লা এবং ভারতের সোনামুড়া নৌপথে পণ্য পরিবহন চালু হবে। আজ বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি হতে নৌপথে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সোনামুড়া পণ্য যাবে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। এদিকে এই নৌপথ চালু হওয়ার মধ্যে দিয়ে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সুবিধার আরো এক ধাপ এগিয়ে গেল বলে মনে করেন রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন মহলের লোকজন।
জানা যায়, কুমিল্লার দাউদকান্দি, তিতাস, মুরাদনগর, দেবিদ্বার, বুড়িচং ও আদর্শ সদর উপজেলার বুক চিড়ে বয়ে গেছে ৯২ কিলোমিটার গোমতী নদী। এর মধ্যে প্রায় ৮৯.৫ কিলোমিটার বাংলাদেশ অংশে এবং অপর অংশ ভারতের। আজ এ নদী দিয়ে দাউদকান্দি হতে নৌপথে পরীক্ষামূলকভাবে ৫০ টন (১ হাজার বস্তা) সিমেন্ট বোঝাই চালান যাবে ভারতের ত্রিপুরায়। পরে ত্রিপুরার সিপাহীজালা জেলার সোনামুড়া এলাকায় খালাস করা হবে এ সিমেন্ট। এজন্য সোনামুড়ায় একটি ভাসমান জেটি নির্মাণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সেখানে সরকারি আনুষ্ঠানিকতার মধ্যদিয়ে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দের এ চালান গ্রহণ করার কথা রয়েছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) একটি সূত্র জানায়, গোমতী নদীতে বর্ষা মৌসুমে দুই থেকে তিন মিটার প্রবাহের পানি থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে নদীতে কোথাও কোথাও এক মিটার পানি থাকে। তবে দুই দেশের মধ্যে নৌপথে পুরোদমে বাণিজ্যিকভাবে নৌ-চলাচল শুরু হলে নৌযান চলাচলের উপযোগী করতে নদীর বিভিন্ন স্থানে ড্রেজিং করতে হবে।
সূত্রটি আরো জানায়, এই নদীর ওপর ছোট-বড় অন্তত ২৩টি কম উচ্চতার সেতু থাকায় পণ্যবাহী বড় জাহাজ চলাচল করতে পারবে না। ফলে ছোট জাহাজে করেই পণ্য আমদানি-রপ্তানির কাজ করতে হবে।
কুমিল্লা জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক ও আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘এই নৌপথ চালু হওয়ার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে আরো একটি বাণিজ্যিক দুয়ার উন্মোচিত হলো। এতে দুই দেশের বন্ধুপ্রতিম সম্পর্ক আরো জোরালো হবে বলে মনে করি।’
বাপাউবো পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মো. জহির উদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ নদী ড্রেজিংয়ের জন্য এরই মধ্যে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে বিআইডব্লিইটিএ।’
কাস্টমস এক্সাইজ অ্যান্ড ভ্যাট কমিশনারেট কুমিল্লার অতিরিক্ত কমিশনার মো. আবদুল হাকিম সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিবির বাজার স্থলবন্দর আর গোমতী নদীর নৌপথের দূরত্ব ২০০ মিটার। এ স্থলবন্দর দিয়ে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৯২ কোটি ৪৬ লাখ ৪২ হাজার টাকা এবং ভারত থেকে আমদানিকৃত পণ্যে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৭৩ লাখ টাকা। নৌপথে পণ্য আমদানি ও রপ্তানির মাধ্যমে রাজস্ব আয় আরো বেড়ে যাবে।’
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর বলেন, ‘বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এর চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক মহোদয় আজ বেলা ১১টার দিকে কুমিল্লা বিবির বাজার স্থলবন্দর থেকে পণ্যের চালানটি আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় কর্মকর্তাদের বুঝিয়ে দেবেন।
