প্রতিকূল আবহাওয়া

রাজশাহীতে দুই দিনে ৫ হাজার মাছচাষির ক্ষতি ১৪ কোটি টাকা

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:৪৫

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী

রাজশাহীতে মেঘলা আবহাওয়ায় সূর্যালোকের অভাবে দুই দিনে প্রায় ৬১৬ মেট্রিক টন মাছ মরে গেছে। গত মঙ্গল ও বুধবার পুকুরে এসব মাছ মরে পানিতে ভেসে ওঠে। এতে রাজশাহীর পবা, বাগমারা, মোহনপুর, গোদাগাড়ী, পুঠিয়া, দুর্গাপুর ও তানোর উপজেলার প্রায় ৫ হাজার মাছচাষির প্রায় সাড়ে ১৪ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এই তথ্য দিয়ে মত্স্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, মঙ্গল ও বুধবার রাজশাহীতে বৃষ্টি হয়েছে। আকাশ ছিল মেঘলা। সূর্যালোকের অভাবে পানিতে অক্সিজেন স্বল্পতা দেখা দেয়। এতে পুকুরের মাছ মরে ভেসে উঠতে থাকে।

জানা যায়, রাজশাহীর আশপাশের জেলায়ও একইভাবে পুকুরের মাছ মরেছে। এতে চাষিরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ফিশারিজ বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. এম মনজুরুল আলম বলেন, সূর্য না ওঠার কারণে পুকুরের উদ্ভিদকণা সালোক সংশ্লেষণ করতে পারেনি। উদ্ভিদকণা কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করে অক্সিজেন ছাড়তে পারেনি। এ কারণে পুকুরে অক্সিজেনের স্বল্পতা দেখা দেয়। এদিকে করোনার কারণে চাষিরা পুকুরের মাছ বিক্রি করতে পারেননি। এতে প্রায় প্রতিটি পুকুরে অতিরিক্ত মাছ জমে গিয়েছিল। তাই অক্সিজেন স্বল্পতায় মাছ মরতে শুরু করে।

জানা যায়, সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে পবা উপজেলার মাছ চাষিদের। যেসব পুকুরে বড় আকারের মাছ ছিল সেসব পুকুরেই বেশি মাছ মরেছে। বড় বড় মাছ নামমাত্র মূল্যে বিক্রির চেষ্টা করেছেন চাষিরা।

মোহনপুর উপজেলার কেশরহাটে বুধবার অন্য দিনের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি মাছ নিয়ে চাষিরা হাজির হন। অতিরিক্ত মাছ আমদানির কারণে আড়তদাররা মাছ বেচাকেনা প্রায় বন্ধ করে দেন। ঐদিন কেশরহাট বাজারে ৪ থেকে ৫ কেজি ওজনের মাছ ৫০ টাকা থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। প্রতি কেজি সিলভার কার্প বিক্রি হয়েছে ১০ টাকা থেকে ২০ টাকা কেজি দরে।

বাগমারার বাজারে ৩ থেকে ৪ কেজি ওজনের রুই, কাতল ও সিলভার মাছ ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। বাগমারার মত্স্য কর্মকর্তা শাহাদত্ হোসেন জানান, যাদের পুকুরে পরিমিত মাছ আছে, তাদের ক্ষতি কম হয়েছে। তাই এখন পুকুরের মাছ কমিয়ে ফেলতে হবে। রাজশাহী জেলা মত্স্য কর্মকর্তা অলক কুমার সাহাও বলেন, রাজশাহীর অধিকাংশ ব্যবসায়ী পুকুরে অতিরিক্ত খাবার দিয়ে অতিরিক্ত মাছ চাষ করেন। বর্ষার আগেই পুকুরের মাছ কমিয়ে ফেলা উচিত।

উল্লেখ্য, বিগত কয়েক বছরে রাজশাহীতে মাছ চাষে বিপ্লব ঘটেছে। জেলায় প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে পুকুর রয়েছে। বছরে মাছের উত্পাদন হয় প্রায় ৮৪ হাজার মেট্রিক টন। জেলার চাহিদা মিটিয়ে এখানকার মাছ ঢাকায় পাঠানো হয়।