টানা ২৭ দিন পর দেশে করোনা ভাইরাসে (কোভিড-১৯) একদিনে মৃত্যুর সংখ্যা ৩০-এর নিচে নেমে এসেছে। গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা ভাইরাসে ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে ৭ আগস্ট এ ভাইরাসে ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এরপর প্রতিদিনই মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৩০-এর বেশি। গতকাল শুক্রবার বিকালে সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে দেশে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির এই সবশেষ তথ্য জানানো হয়।
গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ১৯২৯ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পরায় এ পর্যন্ত দেশে করোনা ভাইরাসে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ২১ হাজার ৬১৫ জন। আর মোট মৃতের সংখ্যা ৪ হাজার ৪১২ জনে দাঁড়াল। আইইডিসিআরের হিসাবে বাসা ও হাসপাতালে চিকিত্সাধীন আরো ২ হাজার ২১১ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন গত এক দিনে। তাতে সুস্থ রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে ২ লাখ ১৬ হাজার ১৯১ জন হয়েছে।
বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ে ৮ মার্চ, ২৬ আগস্ট তা ৩ লাখ পেরিয়ে যায়। এর মধ্যে ২ জুলাই ৪ হাজার ১৯ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ শনাক্ত। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ২৫ আগস্ট সেই সংখ্যা ৪ হাজার ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ৩০ জুন এক দিনেই ৬৪ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ মৃত্যু। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় বিশ্বে শনাক্তের দিক থেকে ১৫তম স্থানে আছে বাংলাদেশ, আর মৃতের সংখ্যায় রয়েছে ২৯তম অবস্থানে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ৯৩টি ল্যাবে ১৩ হাজার ৭৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ১৬ লাখ ৫ হাজার ১১১টি নমুনা। ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ, এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ২০ দশমিক ০৪ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৬৭ দশমিক ২২ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩৭ শতাংশ। এ পর্যন্ত করোনায় মৃত্যুবরণকারী ৪ হাজার ৪১২ জনের মধ্যে পুরুষ ৩ হাজার ৪৫৪ (৭৮ দশমিক ২৯ শতাংশ) জন এবং নারী ৯৫৮ জন (২১ দশমিক ৭১ শতাংশ)। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত ২৯ জনের মধ্যে দশোর্ধ্ব এক জন, ত্রিশোর্ধ্বে তিন জন, চল্লিশোর্ধ্ব তিন জন, পঞ্চাশোর্ধ্ব সাত জন, ষাটোর্ধ্ব ১৫ জন রয়েছেন। বিভাগওয়ারি পরিসংখ্যান অনুসারে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত ২৯ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৪ জন, চট্টগ্রামে দুই জন, রাজশাহীতে চার জন, খুলনায় দুই জন, বরিশালে তিন জন, রংপুরে দুই জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে দুই জন রয়েছেন।
