সুনামগঞ্জে ১৯১ সড়কের ৯৩০ কিলোমিটার চলাচল অনুপযোগী

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:৫২

দুই মাস আগেও সবজি, কাঁচামাল, বালুপাথরবাহী ট্রাক, লরি, অ্যাম্বুলেন্স, ব্যক্তিগত গাড়ি চলতো এই সড়ক দিয়ে। বন্যায় ভাঙনের ফলে কোনোভাবে অটোরিকশা বা মোটরসাইকেল ছাড়া অন্যকোনো যানবাহন চলে না সুনামগঞ্জ-ধারারগাঁও-হালুয়ারঘাট সড়ক দিয়ে।

ধারারগাঁওয়ের মাস্তুরা-মবশ্বির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উজ্জ্বল চন্দ্র শীল মানুষের এমন কষ্টের কথা জানিয়ে বললেন, ‘তিন দফা বন্যার দুর্ভোগ যেন সড়কে রেখে গেছে মানুষের জন্য।’ সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ-গজারিয়া সড়ক দিয়ে কমপক্ষে ৩ লাখ মানুষের যাতায়াত। এই সড়কে গেলে কেউ বুঝবেনই না, দুই মাস আগেও এই সড়ক দিয়ে গাড়ি চলতো। সড়কের অনেকাংশ দেবে গেছে। অ্যাপ্রোচ সড়কের মাটি সরে গেছে। দুটি অংশ একেবারে ভেসেই গেছে। এই অংশগুলো ট্রলারে যাতায়াত করেন মানুষ। এই সড়কে ছোট ছোট কিছু যানবাহন, ভেঙে ভেঙে কিছু কিছু অংশে চলে। জামালগঞ্জের গণমাধ্যমকর্মী ওয়ালিউল্লা সরকার যাতায়াতের এই দুর্ভোগের কথা জানিয়ে বলেন, জামালগঞ্জের ভাটিতে আমাদের যাদের বাড়ি, তাদের দুর্ভোগ কবে শেষ হবে জানি না। কেবল এই দুইটি জনপদই নয়। সুনামগঞ্জের ১১ উপজেলায়ই গ্রামীণ জনপদ থেকে জেলা সদরের সঙ্গে উপজেলার সংযোগ সড়ক, উপজেলা থেকে ইউনিয়ন পরিষদের সংযোগ সড়ক ও পৌরসভা এলাকার সড়কেও রয়েছে বন্যার কষ্ট। তিন দফা বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে সড়কের। দায়িত্বশীলরা বলছেন, বিশেষ প্রকল্প ছাড়া এসব সড়ককে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া কঠিন।

সুনামগঞ্জ এলজিইডি জানিয়েছে, তাদের ১৮৬টি সড়কের ৯০০ কিলোমিটারেরও বেশি কাঁচাপাকা গ্রামীণ সড়ক ডুবে এবং ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া সড়ক বিভাগের পাঁচটি সড়কের ৩০ কিলোমিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সুনামগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম জানান, প্রায় ৩০ কিলোমিটার সড়কের এমন অবস্থা। এই সড়কে নতুন করে কাজ করতে হবে। এজন্য প্রায় ৪০ কোটি টাকার প্রয়োজন। সড়কগুলোতে সাময়িকভাবে বস্তা, কংক্রিট পেলে কোনোভাবে যান চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে নতুন করে কাজ করা হবে। সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুব আলম বলেন, জেলার ১১ উপজেলার প্রায় ৯০০ কিলোমিটার গ্রামীণ কাঁচাপাকা সড়ক তিন দফা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২৪টি সেতু কালভার্ট ভেসে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির এসব প্রতিবেদন আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠিয়েছি। কিছু সড়কে সাময়িক কাজ করে আপাতত চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক সড়কই নতুন করে করতে হবে।