ভারত-চীন সীমান্তে উত্তেজনা

মস্কোয় দুই দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বৈঠকে সমাধানের ইঙ্গিত নেই

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:৩০

ইত্তেফাক ডেস্ক

রাশিয়ার মস্কোয় ভারত ও চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠকে সীমান্তে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের কোনো ইঙ্গিত মেলেনি। যদিও দুই দেশ সীমান্তে উত্তেজনা কমাতে একমত হয়েছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় (এলএসি) পুরোপুরি শান্তি ফেরাতে কূটনৈতিক ও সামরিক স্তরে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু চীনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় লাদাখের পরিস্থিতির জন্য ভারতকে দায়ী করে বলেছে, তারা এক ইঞ্চি জমিও ছাড়বে না। এই পরিস্থিতিতে আবারও মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর এনডিটিভি ও আনন্দবাজার পত্রিকার।

সমাধান সূত্র মেলেনি

অরুণাচল প্রদেশে পাঁচ যুবককে শনিবার ভোরে চীনা সেনাবাহিনীর সদস্যরা অপহরণ করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রদেশের কংগ্রেস বিধায়ক নিনং এরিং। এর আগে শুক্রবার রাতে মস্কোতে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের বৈঠকের সাইডলাইনে আলোচনায় বসেন ভারত ও চীনের মন্ত্রীরা। আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল     ওয়েই ফেংহির সঙ্গে আলোচনায় ‘স্থায়ী শান্তি’র পথ খোঁজার কথা বলেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। বৈঠকে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ভারতীয় সেনা এলএসিতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে। কিন্তু দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনোরকম আপোষ করা হবে না।

অন্যদিকে উত্তেজনার জন্য ভারতকে দায়ী করে চীন বলেছে, তারা এক ইঞ্চি জমিও ছেড়ে দেবে না। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ও অখণ্ডতা বজায় রাখতে চীনের সেনাবাহিনী দৃঢ় প্রতিজ্ঞ, সক্ষম ও আত্মবিশ্বাসী। বেইজিংয়ের অভিযোগ, চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে শেষ যে বৈঠক হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির, তার সমঝোতা সূত্রগুলো ভারতই লঙ্ঘন করেছে। চীনের বিবৃতির পর ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, বিপুল সেনা সমাবেশ, আগ্রাসী মনোভাব ও স্থিতাবস্থা ভেঙে দেওয়ার ব্যাপারে চীনের তত্পরতা দ্বিপাক্ষিক চুক্তির শর্তগুলো পুরোপুরি লঙ্ঘন করছে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ও অখণ্ডতা বজায় রাখতে ভারতও বদ্ধপরিকর বলে জানানো হয়েছে। ভারতীয় এলাকাগুলো থেকে কত দ্রুত বেইজিং তাদের সেনাবাহিনী সরিয়ে নিচ্ছে, তার উপরেই নজর রাখছে দিল্লি।

আবার ট্রাম্পের প্রস্তাব

লাদাখ সীমান্তে উত্তেজনা হ্রাসে আবারও মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। শুক্রবার হোয়াইট হাউজে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প বলেন, সেখানকার পরিস্থিতি বেশ খারাপ। উভয় দেশই অনেক বেশি শক্তি প্রদর্শন করছে। এমনকি অনেকে সেটা বুঝতেও পারছেন না। এই বিরোধ সমাধানে সাহায্যের জন্য ওয়াশিংটন উভয় দেশের সঙ্গে কথা বলছে। তিনি বলেন, আমরা চীন ও ভারতের প্রতি সম্মান রেখেই তাদের সাহায্য করতে প্রস্তুত। ট্রাম্প এর আগেও মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তবে চীন ও ভারত দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমেই সমাধানে আগ্রহ দেখিয়েছে। অন্যদিকে ট্রাম্প বলেছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আমার বড় বন্ধু। আগামী নির্বাচনে ভারতীয়-আমেরিকানরা আমাকেই ভোট দেবে বলে বিশ্বাস করি।

এলএসির পরিস্থিতি নজিরবিহীন :হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেছেন, এলএসির পরিস্থিতি নজিরবিহীন। এভাবে চলতে পারে না। গতকাল ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর ওয়ার্ল্ড অ্যাফেয়ার্সের (আইসিডব্লিউএ) এক ওয়েবিনারে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, অনেক বছর পর সীমান্তে আমরা সবচেয়ে গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছি। তবে আমরা আমাদের সার্বভৌমত্বের ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার ব্যাপারে আপোষ করব না। একই সঙ্গে দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে আমরা সব সময় আলোচনায় আগ্রহী।