বারোমাসি এই জাতের ফলন ভালো
মো. লুত্ফুর রহমান, কুমিল্লা প্রতিনিধি
বারোমাসি ফল ব্ল্যাকবেরি তরমুজ। স্বাদেও বেশ মিষ্টি। সবুজ লতাপাতার মধ্যে মাচায় সারি সারি তরমুজ ঝুলছে। বাতাসেও দুলছে। ছিঁড়ে না পড়ার জন্য ব্যাগ লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। কালো রঙের তরমুজের ভেতরে রক্তাক্ত লাল বর্ণ। ফলন ও বিক্রি ভালো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় চাষিরা। খেতের ফলন দেখতে প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছেন আশপাশের এলাকার কৃষক ও উত্সুক লোকজন। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার গলিয়ারা উত্তর ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামের কৃষক কাজী আনোয়ার হোসেন এই তরমুজ চাষ করেছেন। কুমিল্লায় এই জাতের তরমুজ প্রথমবারের মতো চাষ হচ্ছে এবং কুড়ি শতক জমিতে মাত্র ৩৬ হাজার টাকা খরচ করে দুই মাসে আড়াই লাখ টাকা আয় হয়েছে বলে জানান চাষি ও স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চাষির খেতে মাচার নিচে থরে থরে ঝুলছে কালো রঙের তরমুজ। চাষি আনোয়ার হোসেন একটি একটি করে তরমুজ কাটছেন, আর ঝুড়িতে তুলছেন। প্রতি কেজি তরমুজ বিক্রি করছেন ১০০ থেকে ১৫০ টাকায়। খুচরা ও পাইকারি ক্রেতারা খেত থেকে তরমুজ কিনে নিচ্ছেন। জেলার চান্দিনা উপজেলার মাধাইয়া বাজার থেকে আসা পাইকারি ক্রেতা আবদুল ওহাব বলেন, ‘খবর পেয়ে এসেছি। জমিতে বিভিন্ন আকারের তরমুজ, দামে ভিন্নতা আছে। প্রতিটি তরমুজের ওজন তিন থেকে চার কেজি। কেজি ১০০ থেকে ১৩০ টাকা দরে কিনেছি। এগুলো ১২০ থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি করতে পারব বলে আশা করছি।’ চাষি আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ইউটিউবে দেখে আমি ব্ল্যাকবেরি তরমুজ চাষে আগ্রহী হই। এরপর কিশোরগঞ্জ থেকে বীজ সংগ্রহ করে কুড়ি শতক ধানি জমি তরমুজ চাষের জন্য প্রস্তুত করি। পরে তরমুজের বীজ বপন করি। তরমুজের চারা বড় হলে সেগুলো বাঁশ দিয়ে তৈরি মাচায় ছড়ানো হয়। এরপর প্রথমে ফুল আসে। পরে ক্রমান্বয়ে বেরিয়ে আসে কালো রঙের তরমুজ। দুই মাসের মধ্যে তরমুজ পরিপক্ব হয়। কালো রঙের তরমুজের ভেতরে রক্তাক্ত লাল বর্ণ। স্বাদে মিষ্টি। করোনাকালে তরমুজ বিক্রি করে লাভ হওয়ায় মনে সাহস পাচ্ছি। এবার আরো বেশি জমিতে তরমুজ চাষ করব।’
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাহিদা খাতুন বলেন, ‘কাজী আনোয়ার হোসেন কুমিল্লা অঞ্চলে প্রথম ব্ল্যাকবেরি প্রজাতির তরমুজ চাষ করছেন। এ তরমুজের চাষ বারো মাস হয়ে থাকে। প্রথমে তিনি ২০ শতক জমিতে তরমুজ চাষ করেন। প্রাকৃতিক উপায়ে পোকা দমন প্রক্রিয়াসহ সব ধরনের সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়ে তাকে সহযোগিতা করা হয়েছে। ফলন দেখে ভালো লাগছে। ৩৫ হাজার টাকা খরচ করে ৬৫ দিনে তিনি আড়াই লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করেছেন। কম সময়ে তরমুজ চাষে কৃষকরা ভালো লাভ করতে পারবেন। তাই এই প্রজাতির তরমুজ চাষ সমপ্রসারণের জন্য কৃষকদের উত্সাহিত করা হবে।’
