ভাড়া করা কর্মী দিয়ে ফেরি করে গাঁজা ও ইয়াবা বিক্রি

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:১৯

কাওরান বাজারে জমজমাট মাদক ব্যবসা

বিশেষ প্রতিনিধি

রাজধানীর অন্যতম কাঁচামালের বাজার কাওরান বাজার। এখানে রাতভর আড়তে বেচাকেনা চলে। কিন্তু মাদক ব্যবসা বিশেষ করে গাঁজা ও ইয়াবা বিক্রি চলে ২৪ ঘণ্টাই। আর এসব বিক্রি এবং পুলিশের আগমন সম্পর্কে তথ্য জানার জন্য কর্মী ভাড়া করে মাদক ব্যবসায়ীরা। তারা দায়িত্ব পালন করে পালাক্রমে। এলাকার প্রধান সড়ক, রেলগেটসহ কয়েকটি স্থানে এসব ভাড়া করা লোক অবস্থান করে। আর প্রতিজনকে সে জন্য দেওয়া হয় ৫০০ টাকা করে। অন্যদিকে গাঁজা ও ইয়াবা বিক্রির জন্য যাদের নিয়োজিত করা হয় তারা বিক্রির পর নির্ধারিত হারে পায় কমিশন। এলাকায় ইয়াবা এবং গাঁজা বিক্রির সঙ্গে জড়িত রয়েছে শতাধিক তরুণী, কিশোরী ও বয়স্ক মহিলা।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, কাওরান বাজারে কাঁচামাল আড়ত্দারদের কাছ থেকে বিভিন্ন সংগঠনের নামে যেমন চাঁদা আদায় করা হয়, তেমনি মাদক ব্যবসার জন্য একটি চক্র মাদক ব্যবসায়ীদের পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে চাঁদা নেয়। এ ব্যাপারে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার হারুন উর রশিদ গত সপ্তাহে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও গতকাল পর্যন্ত তার কার্যকারিতা দেখা যায়নি। তবে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (ঢাকা মেট্রো উত্তর) মেহেদী হাসান বলেন, ‘আমরা মাদক ব্যবসা বন্ধ করার জন্য লোক লাগিয়েছি। তারই পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল রবিবার মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মেট্রো টিমের তেজগাঁও ও উত্তরা সার্কেল কাওরান বাজার এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় ১৩ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত গ্রেফতারকৃত সোহাগ, জহিরুল ইসলাম, নবী, আজিজ, রবিউল আওয়াল, সজীব হোসেন, রাকিব, করিম, তারা মিয়া, ফয়সাল, মামুন ও শুক্কুরকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। অন্যদিকে বকুল মিয়া নামে এক মাদকসেবীকে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে চিকিত্সার জন্য পাঠানো হয়েছে। এখন থেকে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযান চলমান থাকবে। ’

তবে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এ অভিযানের ব্যাপারে একাধিক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, কাওরান বাজারে গাঁজা ও ইয়াবা বিক্রি করে কিশোরী ও নারীরা। তাদের কাছে গাঁজা ও ইয়াবার জোগান দেয় তাদের পুরুষ সহযোগীরা। মহিলারা সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে তা ফেরি করে বিক্রি করে। কিন্তু মাদক অধিদপ্তরের এ অভিযানে তারা কেউ গ্রেফতার হয়নি। কাওরান বাজারের মাদক বিক্রি বন্ধ করতে হলে অতি গোপনেই অভিযান চালাতে হবে। ঢাকঢোল পিটিয়ে অভিযানে কোনোভাবেই মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব না।