অবহেলায় মৃত্যুর অভিযোগ এনে পুলিশের হত্যা মামলা

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:২৮

নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণ ও হতাহতের ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হয়েছে। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, মসজিদ কমিটি, তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ, বিদ্যুত্ সরবরাহ ও ভবন নির্মাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর অবহেলার কারণে এই আগুনের সূত্রপাত এবং হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। মামলায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। গত শনিবার রাতে ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। এদিকে গতকাল রবিবার এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৫ জনে দাঁড়িয়েছে। শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিত্সাধীন অগ্নিদগ্ধ অন্য ১২ জনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন বলেন, শহরের পশ্চিম তল্লা বায়তুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে মামলা হয়েছে। তদন্তে যাদের অবহেলা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মামলাটির তদন্ত চলছে।

এদিকে মসজিদের আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে এখনো শোকের মাতম থামেনি। আহত ও নিহতদের স্বজনদের আহাজারিতে পুরো তল্লা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘরে ঘরে বইছে শোকের মাতম আর কান্নার রোল। কে কাকে সান্তনা দেবেন সেই ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন সকলে। স্বাধীনতার পর একসঙ্গে এত মানুষের মৃত্যু ও আহত হওয়ার ঘটনা এই প্রথম দেখলো তল্লাবাসী। গতকাল নিহত দুই জনের লাশ আসার পর জানাজায় শত শত লোক শরিক হন।

তদন্ত শুরু : বিস্ফোরণের ঘটনায় চারটি তদন্ত কমিটিই আলাদা আলাদাভাবে কাজ শুরু করেছে। একদল রাসায়নিক বিশেষজ্ঞ গতকাল বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন ও মেনটেইন্যান্স) লে. কর্নেল জিল্লুর রহমান বলেন, ‘প্রাথমিক অবস্থায় আমরা দেখতে পাচ্ছি এ দুই তলা মসজিদের নিচতলার ফ্লোরের নিচে তিতাস গ্যাসের একটা লাইন আছে। ফ্লোরে পানি থাকার কারণে পানিতে বুদবুদ উঠেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, বিদ্যুত্ ও গ্যাসের সংযোগে এই ঘটনা ঘটেছে।’

দুপুরে তল্লা মসজিদ পরিদর্শন করেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরী। পরিদর্শন শেষে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের সরকার আরেকটু সতর্ক হলে আরেকটু ব্যবস্থা নিলে মসজিদে বিস্ফোরণে কম মারা যেত। সরকার এটা ঘটায়নি, কিন্তু তাদের ব্যর্থতা রয়েছে। এই যে কষ্টটা, অকল্পনীয়।’

ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট: মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় হতাহত প্রত্যেকের জন্য ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেছেন অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। বিস্ফোরণের ঘটনায় তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের অবহেলাকে দায়ী করেছেন এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড আগে থেকে উদ্যোগ নিলে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটতো না। বরং তারা ৫০ হাজার টাকা ঘুষ চেয়েছিল। সেটা না দেওয়ায় কাজ হয়নি। আর সে কারণেই দুর্ঘটনা ঘটেছে। যদিও তিতাসের স্থানীয় কর্মকর্তা তা অস্বীকার করেছেন।

গত শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার পশ্চিমতল্লা এলাকার বাইতুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণ ঘটলে অর্ধশতাধিক মুসল্লি দগ্ধ হন। তাদের মধ্যে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় ৩৭ জনকে জাতীয় শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। বিস্ফোরণে আহত ও নিহতের বেশির ভাগই পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি-গার্মেন্টকর্মী ও নিম্ন আয়ের মানুষ। উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে অনেক পরিবার এখন বাকরুদ্ধ।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে নিহতদের ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিস্ফোরণে নিহত প্রত্যেক পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা ও আহতদের ৩০ হাজার টাকা করে অনুদান প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন মডেল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদুর রহমান।