ফল

নুন ও শুকনো মরিচ গুঁড়ো মাখানো আমড়া

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৯:২৯

গ্রাম-বাংলার অতি প্রচলিত ফল। স্বাদের দিক দিয়ে কষ্টি ও অম্ল স্বাদযুক্ত। গন্ধটাও চমত্কার। খেতে কাঁচা-মিঠা আমের মতো। এ ফলের শাঁস বেশি, আকারেও বড়। তবে বিলাতি আমড়া দেশি আমড়ার মতো স্বাদের দিক দিয়ে টক নয়। একটু নুন ও শুকনো মরিচ গুঁড়ো হলে স্বাদের গুণ অনেকটাই বেড়ে যায়।

আমড়ার বৈজ্ঞানিক নাম Spondias pinnata। পাতাঝরা বৃক্ষ। উচ্চতায় ২০ থেকে ২৫ ফুট। পাতা গাঢ় সবুজ। শাখা-প্রশাখা খুব নরম। শীতে পাতা ঝরে যায়, এরপরই শাখা-প্রশাখায় ফুল আসে। পাতায় পাতায় গাছ ভরে যায়। ফুলগুলোও দেখতে আমের মতো। ফল দেখতে ডিমের মতো, খোসা মসৃণ ও গাঢ় সবুজ। আর থোকায় থোকায় আমড়া ঝুলে থাকে। ফল পাকলে হলুদাভ হয়ে যায়। ভাদ্র থেকে কার্তিক মাসের মধ্যে ফল পাকে। ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ এই ফলের অনেক গুণ। অরুচি, বদহজম, কোষ্টকাঠিন্য, সর্দি-কাশির ক্ষেত্রে বেশ উপকারী। এ কারণে এর কদরও বেশি।

দেশি আমড়া আকারে ছোট। সাধারণত চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বনাঞ্চলে ভালো জন্মে। কাঠ থেকে নিম্নমানের জ্বালানি পাওয়া যায়। আর বিলেতি আমড়ার আদি নিবাস আফ্রিকা। বাংলাদেশের বরিশাল এবং ভারত-শ্রীলংকা-ইন্দোনেশিয়ায় বিক্ষিপ্তভাবে জন্মে। বর্তমানে এদেশে থাইল্যান্ড থেকে বারোমাসি আমড়ার চারা আনা হয়েছে। কেউ কেউ বিলেতি আমড়ার চাষাবাদ করে আয়ে বাজিমাত করেছে।

অনেক সময় দেখা যায় এক ডালে আমড়া পাকছে, অন্য শাখায় গুটি বাঁধছে, আরেক শাখায় ফুলও ফুটছে। নিঃসন্দেহে দৃষ্টিনন্দন। মন জুড়ায়। সময়ের ফল, অসময়ে খাওয়া দারুণ এক অনুভূতি। কাঁচা এ ফল সুস্বাদু নয়। এদেশের কাঁচা-আম আর বিদেশি আপেলের সুবাসিত ঘ্রাণ বিলেতি আমড়ায় পাওয়া যায়। প্রবাসী স্বজনদের কাছে শুনেছি, আমড়া দিয়ে সালাদ তৈরি করা হয়। গ্রাম-বাংলায় আমড়ার সালাদ এখনো চালু হয়নি। গাঁও-গ্রামে এ গাছের চারার বেশ কদর রয়েছে।